পলাশের মনে হয়েছিল সবকিছু শেষ, কিন্তু দরজার বাইরে সেই ধোঁয়াশা ছায়া দেখে তার হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে ওঠে। ছায়াটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে, যেন তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি নতুন ভয়ের ছাপ ফেলে। পলাশ বুঝতে পারে, যা-ই আসছে, সেটা আগের চেয়েও শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক।
লাইভ চ্যাটে ভিউয়ার্সরা আতঙ্কে লিখতে শুরু করে, "পলাশ, তোমাকে বের হতে হবে!", "এটা কী?", "দরজাটা বন্ধ করো!" পলাশ তাদের পরামর্শ মানতে চাইছিল, কিন্তু তার শরীর যেন জমে গেছে। সে অনুভব করতে পারে, এই ছায়াটি কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও তাকে আক্রমণ করছে।
সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু তারপর তার মন আবার কাজ করতে শুরু করে। পলাশ জানে, তাকে এখান থেকে পালানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে, কিন্তু সেই সাথে তাকে তার ভিউয়ার্সদেরও নিরাপদ রাখতে হবে।
ছায়াটি দরজার ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করছে, যেন এটি পলাশের উপস্থিতি টের পাচ্ছে। পলাশ জানে, এটি সাধারণ কোনো ভূত নয়; এটি যেন এক ধরনের অশুভ শক্তি, যা তাকে পুরোপুরি গ্রাস করতে চায়। পলাশ ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায়, তার হাত আবারও ল্যাপটপের কীবোর্ডে চলে যায়।
"বন্ধুরা, আমি জানি না এটা কী, কিন্তু আমি চেষ্টা করছি কিছু করতে। তোমরা সবাই শান্ত থেকো। যদি কিছু ঘটে, তবে দয়া করে আমাকে মাফ করো," পলাশ ধীরে ধীরে টাইপ করে।
পলাশ তৎক্ষণাৎ মনে করে, যে বইটি সে খুঁজে পেয়েছিল, তাতে আরও কিছু থাকতে পারে যা তাকে সাহায্য করতে পারে। সে দ্রুত আবার বইটির পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকে, তার আঙুল দিয়ে প্রতিটি শব্দের উপর দিয়ে যায়।
তবে কক্ষের ভেতর হিমেল বাতাস বাড়তে থাকে, ছায়াটি তার দিকে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে আসে। পলাশ তাড়াহুড়ো করে, কিন্তু কিছুই কাজে লাগছে না। বইটির লেখা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর কোনো ইঙ্গিত নেই।
তারপর হঠাৎ করে, লাইভ চ্যাটের একজন ভিউয়ার্স একটি অদ্ভুত পরামর্শ দেয়, "পলাশ, কিছু সাদা আলো ব্যবহার করে দেখো। অশুভ শক্তি সাধারণত সাদা আলোতে দুর্বল হয়।"
পলাশ দ্রুত তার ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট চালু করে, এবং সেটি সরাসরি সেই ধোঁয়াশা ছায়ার দিকে ধরে। প্রথমে কিছুই হয় না, কিন্তু কিছুক্ষণ পর ছায়াটি ধীরে ধীরে পিছু হটতে শুরু করে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হচ্ছে না; যেন পলাশের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছে।
পলাশ তখন একটি ঝুঁকি নেয়। সে পুরো কক্ষটিতে ল্যাপটপের স্ক্রিনের সাদা আলো বাড়িয়ে দেয় এবং ফ্ল্যাশলাইট সরাসরি ছায়ার দিকে ধরে রাখে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য, ছায়াটি কাঁপতে থাকে, এবং তারপর একটি উচ্চতর গর্জনের সাথে মিলিয়ে যায়, যেন বাতাসে মিশে যাচ্ছে।
কিন্তু পলাশ জানে, এটি কেবল একটি সাময়িক সমাধান। এই জায়গাটি এখনো সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, এবং তার ভিউয়ার্সদেরও কিছু করার আছে। পলাশ লাইভ চ্যাটে ফিরে এসে বলে, "বন্ধুরা, সবাই মিলে একসাথে কিছু করতে হবে। আমাদের প্রার্থনা করতে হবে, এই জায়গাটির অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে। আমি জানি না এটি কাজ করবে কিনা, কিন্তু আমরা চেষ্টা করতেই পারি।"
পলাশ সবাইকে ধ্যান করার পরামর্শ দেয়, এবং তার ভিউয়ার্সরা তার কথা মেনে চলে। তাদের প্রার্থনার শব্দ কক্ষটিতে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, এবং ধীরে ধীরে পলাশ অনুভব করে কক্ষটির ভেতরের সেই ভারী অনুভূতি হালকা হয়ে আসছে।
কিছুক্ষণ পর, কক্ষটি সম্পূর্ণরূপে শান্ত হয়ে যায়। পলাশ গভীরভাবে শ্বাস ফেলে। "আমি মনে করি আমরা এটি পারলাম," সে শান্তভাবে বলে। "আমাদের সবার প্রার্থনা সম্ভবত এই জায়গাটিকে শুদ্ধ করেছে।"
তবে হঠাৎ করেই, লাইভ চ্যাটের এক ভিউয়ার লিখে, "পলাশ, জানালার বাইরে আবার সেই ছায়াটি!"
পলাশ হতবাক হয়ে যায়। বাইরে তাকিয়ে দেখে, অন্ধকার আকাশে একটি বিশাল ছায়া মূর্তি ধীরে ধীরে আকার নিচ্ছে। তার মনে হয়, যা-ই থাকুক না কেন, এটি এখনো পুরোপুরি পরাজিত হয়নি।
(চলবে...)
সন্ত্রাসের লাইভ স্ট্রিম (পাঠ ৪)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
192
Views
4
Likes
1
Comments
4.0
Rating