ভয়ানক রাতের অভিজ্ঞতা (দ্বিতীয় পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
এই বলে তিন বন্ধু মিলেই রওনা দিলাম ফেরিঘাটের উদ্দেশ্য। যেতে যেতে পথে বন্ধুরা মিলে বেশ হাসিঠাট্টা করতে লাগলাম। আর এভাবেই মজার ছলে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ফেরিঘাটে পৌঁছে গেলাম বুঝতেই পারলাম না।

তো যাই হোক নদীর পাড়ে এসে তখন শেষ বিকেলের দৃশ্যটা উপভোগ করতে লাগলাম। নদীর পাড়ের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগতেই যেন প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছিলো।

এরই মাঝে খালিদের অনুরোধে আমরা তিন বন্ধু মিলে ফেরিতে উঠে নদীর এপাড় থেকে ওপাড় আবার ওপাড় থেকে এপাড়ে ফিরে আসলাম। আর এভাবেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে কখন যে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে টেরই পেলাম না।

হঠাৎ করেই মায়ের ফোন আসালো। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে মা বলে উঠলো- " অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি বাসায় আসো। তোমার বাবা তোমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাসায় ফিরে কলেজের কাগজপত্র গুলো একবার চেক করে নিতে বলেছে ।"

মায়ের কথা শোনার পর আমিও বলে উঠলাম - "ঠিক আছে মা। আমি আসতেছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।"

মায়ের সাথে কথা বলার পর ফোনটা রেখে দেখি চারপাশটা বেশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো তখন। এদিকে বাড়ি থেকে তাড়া দেওয়ায় বন্ধুদের বললাম - " চল। এখন বাসায় ফিরে যাওয়া যাক। এমনিতেই অনেকটা সময় কেটে গেছে। আর দেরী করা যাবে না।"

রুদ্র আর খালিদও তখন আমার কথা মতো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। কিন্তু আমরা তিনজন তখন কোথায় কোনো ভ্যান রিকশা দেখতে পেলাম না । এমন সময় ভেবে দেখলাম যে পথে আমার ফেরিঘাট এসেছি সেই পথেই যদী আবার হেঁটে ফিরতে যাই তাহলে কম করে হলেও আমাদের প্রায় আধঘন্টার বেশি সময় লাগবে।

তখন রুদ্র বলে উঠলো- " আমরা আবার হেঁটে গেলে তো অনেকটা সময় লাগবে। তার থেকে একটা শর্টকাট রাস্তা দিয়ে গেলে সেখানে আমাদের দশ থেকে পনেরো মিনিট সময় বাঁচবে। তোমরা যদি বলো তো আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাই?"

ঐ মুহুর্তে রুদ্রের কথা শোনা ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না আর এদিকে আমারও বাড়ি ফেরার খুব তাড়া থাকায় সবাই মিলে সেই শর্টকাট পথেই বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলাম।

তবে শর্টকাট রাস্তাটা একদম নদীর পাড় ঘেঁষে চলে গিয়েছে। যদিও ওটা রাস্তাই বটে তবে খুব একটা লোকের যাতায়াত ছিল না ঐ রাস্তায়। তার কারণ হচ্ছে রাস্তাটা ছিল খুবই নির্জন আর গোরস্থানের পাশেই। তাছাড়াও জনবসতি না থাকায় রাস্তার আশেপাশে গজিয়ে উঠেছে জংলী ঝোপঝাড় আর মস্ত বড় বাঁশ বাগান।

এদিকে আমরা তখন তিন বন্ধু একসাথে কথা বলতে বলতে সেই শর্টকাট রাস্তা ধরেই হাঁটতে লাগলাম। বন্ধুরা মিলে হাসিঠাট্টা করতে করতে বেশ খানিকটা পথ চলে এসেছি। তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে আরো রাত হয়ে গেলো। তাই অন্ধকারের সাথে সাথে আশপাশের নির্জনতাও আরো বেড়ে গেলো।

আশপাশের কোনোকিছুই ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিলো না বলে আমরা তিন বন্ধু নিজেদের ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে পথ চলতে লাগলাম। তবে সবথেকে অবাক করার বিষয়টা হলো এতক্ষণ ধরে হাঁটার পরেও এই রাস্তায় আমাদের ছাড়া আর কাউকেই আসতে বা যেতে দেখছি না।

তো যাই হোক আমরা যখন নিরিবিলি রাস্তায় নিজরাই হাঁটছিলাম এবং হাঁটতে হাঁটতে বাঁশ বাগানের কাছাকাছি এসে পৌঁছাই ঠিক তখনই যেন একটা করুন আর্তনাদের আওয়াজ ভেসে আসলো আমাদের কানে।

চলবে.......


###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সেটা জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের একটা লাইক আর কমেন্টই আমাদের নতুন করে লেখালেখির অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। সবাইকে ধন্যবাদ 🥰)
429 Views
14 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this: