রাত প্রায় 10 টা বাঝে ,,তখন এক ঘর থেকে ঠাস ঠাস করে কাওকে মারার শব্দ ভেসে আসছে । আর প্রতিবেশিরা বলা বলি করা শুরু করেছে ,,।
ঔ যে জামালের ঘর থেকে বউকে মারার শব্দ ভেসে আসা শুরু হয়ে গিয়েছে ।
কোন কোন প্রতিবেশীরা আরও বলছে এমন জঘন্য মানুষ খুব কমই আছে দুনিয়াতে ,,অসহায় মেয়েটাকে কেমন করেই না মারে প্রতিদিন এই জামাল ।
সেই ঘর থেকে শুধু ঠাস,, ঠাস করে মারার শব্দই ভেসে আসছে না ,,,,,,
ছোট ছোট দুইটা মেয়ের কন্ঠ ভেসে আসছে,,,তারা বলছে বাবা মাকে ছেড়ে দাও আর মেরনা মাকে এতো মারলে মাতো মারা যাবে এখন । কান্না করছে আর বলছে এগুলো তারা ,বাবা ও বাবা মাকে ছেড়ে দাও তোমার পায়ে ধরি ,,,,,
তাও যেনো পাষান বাবার এই ছোট ছোট মেয়েদের কথায়ও মনটা গলছে না ।
কিছু না বুঝে মেয়ে গুলো প্রতিবেশিদেরকে ডাকাডাকি করা শুরু করেছে ,কি বা আর করবে চোখের সামনে মাকে মারতে দেখে কোন সন্তান বসে থাকতে পারবে কি ? ,,
বড় মেয়েটা চিৎকার করে বলছে আমার মাকে বাঁচাও তোমরা কে কোথাই আছো ,,,প্রতিবেশিরা শুনছে শুধু কিন্তু কেও এগিয়ে আসছে না ,,,কেও কেও তো এমনও মানুষ আছে তারা তামাশা দেখতে পছন্দ করে , প্রতিবাদ করতে না।
আবার কেও কেও এগিয়ে আসে না ,,কারন যে এগিয়ে আসবে প্রতিবাদ করার জন্য তাকেই জামাল খারাপ ভাষায় গালাগালি করা শুরু করে এই ভয়েও অনেকেও আসেনা,,,
( " কিন্তু সবাই যদি,এক হয়ে এমন অসহায় মেয়ের পাশে এসে দাঁড়াতো তাহলে হইতো ,, জামালদের মতো এমন জুয়াখোর লোকরা তাদের বউ সন্তানদের উপর এমন নির্মম অত্যাচার করতে পারতো না ,,, কিন্তু সমাজে প্রতিবাদী মানুষ কমে যাচ্ছে ,,,আর বেড়ে যাচ্ছে মানুষকে অত্যাচার করার মানুষ")
কিছুক্ষণ পর এক বুড়া লোক এগিয়ে আসলো ,,,এসে বললো ঔ জামাল দরজা খোল । নয় কিন্তু পুলিশ নিয়ে আসবো ,খোল ঔ দরজা খোল জামাল,,, ।
কিছুক্ষণ পর দরজা খোলে জামাল বললো কি হয়েছে দাদা আমাকে বিরক্ত করো কেনো ? যাও এখান থেকে চলে যাও।
সেই বুড়া লোক বললো তোর জন্য তো আমরা আশপাশের মানুষ ঠিক মতন ঘুমাতেও পারি না,,,
জামাল : আমিকি তোমাদের ঘুমাতে না করছি নাকি ,,,এতো ফাও কথা বলিও না ,,,আর আমার মাথা গরম কইরো না দাদা ।
কিছুক্ষণ পর জামাল ঘর থেকে বের হওয়ার পর বউকে বলে আসলো ,,,সকালে টাকা যদি না বের করিস তাহলে তোর খবর আছে আর লাঠিটার মধ্যে তেল দিয়ে রাখিস আমার কাজে লাগবে সকালে ।
এই বলে বকা বকি করে জামাল চলে যেতে লাগলো ।
আর সে বুড়া লোক টিকে বললো,,, দেখ দাদা আর যেনো কোনদিন আমার ঘরের সামনে তোমাকে না দেখি বুঝছো ।
,,,,বুড়া লোক : আচ্ছা যা খুশি কর,,,এমন করে বউকে তিলে তিলে মারার থেকে একবারে মেরে ফেললেই তো হয় ,,, ।
জামাল : ,, আচ্ছা দাদা আমিকি তোমার বউকে মারি ? নাকি আমার বউকে মারি ? তোমার এতো মাথা ব্যাথা কিসের জন্য,,,?
বুড়া লোক : কি লাভ পাস বলতো বউকে মেরে ,,,,,
জামাল : মজা পাই বুঝছো,দাদা,, তোমার বুড়িকে মেরে দেখ দারুন মজা পাবা বুঝছো ,,,,যাও এখান থেকে দাদা চলে যাও । ।আমার মাথা গরম করতে এসো না আরো অনেক অপমান করতে লাগলো,,,,।
বুড়া লোকটি যাওয়ার সময় বলে আসলো একদিন এর সাজা তুই পাবি জামাল,,, আল্লাহ তোর বিচার ঠিকই করবে।
আমরা পারিনা তাই কি হয়েছে ,,আল্লাহ তর বিচার ঠিকই করতে পারবে ,,,
এই বলে সেই লোকটা চলে আসলো জামালের বাড়ি থেকে,,,,
জামাল ও চলে গেলো কোথাই যেন বাড়ি থেকে,,,
তখন রাত 12 টা বেজে প্রায় ,,, জামালের দুই মেয়ে মাকে জরিয়ে ধরে অনেক কান্না কাটি করা শুরু করলো ,,, তাদের মাকে বললো মা তোমার অনেক ব্যাথা লাগছে তাইনা মা,,,,
তাদের মা বললো নারে মা ব্যাথা লাগেনেই,,,আর আমি না তোদেরকে বলছি যখন তোর বাবা আমাকে মারবে তখন ছোট বোনকে নিয়ে দূরে কোথাও বসে থাকবি ,,,।
কেনো আমার কথা শুনিস না তোরা এই বলে দুই মেয়েকে জরিয়ে দরে হাওমাও করে কান্না করা শুরু করলো ,,,,
,( " আর ভাবতে লাগলো ,,যখন জামাল ভালো ছিলো তখনকার কথা,, সুখী ছোট একটি পরিবার ছিলো তাদের হাসি খুশি আনন্দেই কাটতো দিন ,,।
টুকটাক কাজ করতো জামাল কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তাদের সংসারে কালো ছায়া নেমে আসলো ,,,এক জুয়া খুর ছেলের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায় জামালের ,,।
কু বুদ্ধি,,যত ধরনের খারাপ বুদ্ধি খারাপ পরামর্শ আছে সব দিতো সে জামালকে ।
বিষেশ করে কিভাবে জুয়া খেলে তারাতারি বড়লোক হওয়া যায় সেই বুদ্ধিও দিতো ,,সেই লোকের নাম ছিলো রবিন একদিন রবিন জামালকে বুদ্ধি দিলো ,
বললো তোর বউকে টাকা দিতে বল আর কোটিপতি হয়ে যায় ,,, জামাল বললো আমার বউ টাকা পাবে কোথাই ,,,রবিন বললো বাবার বাড়ি থেকে আনতে বল ,,, জামাল বললো আমি যদি বলি জুয়া খেলার জন্য টাকা লাগবে তাহলে কি আমার বউ টাকা এনে দিবে ,,,।
এই কথা শুনে রবিন হাসতে লাগলো ,,, জামাল বললো হাসলি কেনো ? রবিন বললো তুইকি বোকা নাকি তুই বলবি কেনো যে তুই জুয়া খেলবি ,,তুই বলবি তুই অটো কিনবি ,,অটো চালিয়ে রোজগার করবি ,,।
এই কথা তোর বউকে বলে ৫০ হাজার টাকা লাগবে তো বলবি ,,,, জামাল বললো তোর তো অনেক বুদ্ধিরে বন্ধু,,,এই বলে দুজনে হাসাহাসি করা শুরু করলো ,,।
এইগুলো জামাল বউকে এসে বললো ,, অসহায় মেয়েটি সত্যি ভেবে গরীব বাবার গরু বেঁচে এনে জামালকে টাকা দেয় ,, কিন্তু সেদিনি জুয়া খেলে ,, রবিনের কাছে জুয়ায় হেরে যায় ,, বন্ধু নামে খারাপ ছেলেটি টাকা নিয়ে গ্রাম থেকেই ওধাও হয়ে যায় সেদিনি ।
আর শুরু হয় জামালের জিদ রাগ ,,,সব কিছু বউয়ের সাথে খাটানো শুরু করলো,,আর জামাল বউয়ের উপর অত্যাচার করা শুরু করে দিলো ")
এগুলো ভাবছে আর কান্না করছে জামালের বউ ,,,মেয়ে ডাক দিয়ে বললো মা ও মা আর কেঁদো না ,,,,,
মেয়েরা মায়ের চোখের পানি মুছে দিল ,,তখন মেয়ে বললো মা বাবাতো সকালেও তোমাকে আবার মারবে,, তুমি টাকা দিয়ে দেওনা কেনো মা ?,,
, তাদের মা বললো আমিতো এই টাকা তোর স্কুলের পরীক্ষার ফিস এর জন্য রাখছি ,,,
মেয়ে বললো মা আমি লেখাপড়া করবো না ,,তুমি বাবাকে এই টাকা দিয়ে দাও নয় তোমাকে বাবা এসে আবার সকালেও মারবে ,,,,।
তাদের মা বললো এখন খেয়ে ঘুম আসো তোমরা ,,
সেটা সকালে দেখা যাবেনি , যা হওয়ার তাই হবে । আমার সপ্ন আমার মেয়েরা লেখা পড়া করে অনেক বড় হবে ,,,আমার এটাই তোমাদের জন্য আল্লাহ কাছে চাওয়া ।
মেয়ে বললো ,,মা বাবা তো চায়না আমরা লেখাপড়া করি ,,, তাদের মা বললো দেখবি একদিন তোর বাবাও বুঝবে আর তোদেরকে নিয়ে গর্ব করবে । এর জন্য তো আমার মেয়েদের লেখা পড়া করতে হবে ,,,,
( "আর হ্যা সবার পরিচয়টা দিয়ে নেই,,জামাল হলো একটা ,,,জুয়া খোর বউকে মেরে ধরে টাকা নিয়ে জুয়া খেলে টাকা ওড়িয়ে দেয় ,,,
আর জামালের বউয়ের নাম আছিয়া ,,,তাদের দুইটা ফুলের মতো মেয়ে আছে জারা এবং সারা,,,জামাল কোন কাজ কাম করে না ,,, শুধু জুয়ার নেশায় পড়ে থাকে ,,,আর আছিয়া খুব ভালো একটি মেয়ে,, সেলাই মেসিন আছে আছিয়ার লোকের পোশাক বানিয়ে রোজগার করে ,,,আর সেই টাকা জামাল এসে আছিয়াকে মেরে নিয়ে চলে যায় ,,,।
আবার জামাল আছিয়ার সেই কষ্টের টাকা দিয়েই জুয়া খেলে ,,,আর ওদের বড় মেয়ের বয়স 10 বছর আর ছোট মেয়ের বয়স 5 বছর ,,,এই হলো তাদের পরিচয় " )
হয়তো আমার লেখা বানানে অনেক সমস্যা হয়েছে ,,, কিন্তু ইনশাল্লাহ আস্তে আস্তে সব ঠিক করে ফেলবো ,,, নতুন লেখক তো,,,আগে কিবোর্ড দিয়ে কোন লেখালেখি করিনি বেশি তো এর জন্য লেখতে সমস্যা হয়ে যায় ,,,সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আসা করি।
সবাইকে অনুরোধ জানাই আমার গল্পটা পড়ে সুন্দর একটি রিভিও দেওয়ার জন্য,,,তাতে লেখা লেখি করতে উৎসাহিত হই,,আর এতে অনেক অনেক ভালোলাগে লেখতে আমার 😊
আর কি হবে সকালে ??
জামাল কি আছিয়াকে সকালে আবারো মারবে ???
আর আছিয়া কি তার মেয়ের পরীক্ষার জন্য রাখা ফিসের টাকা জামালকে দিয়ে দিবে ?
জানার জন্য পাশে থাকেন বন্ধুরা ,,,সবাইকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ,,
প্লিজ ভালো লেগে থাকলে একটি লাইক দিবেন ,,,
চলবে,,,,,,,
জুয়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
767
Views
23
Likes
4
Comments
4.4
Rating