পলাশের মস্তিষ্ক পুরো গতিতে কাজ করছে। এই অভিশপ্ত স্থানকে ধ্বংস করার জন্য কোনো পরিকল্পনা বের করতে হবে। তার একমাত্র আশা, হয়তো রেড রুমের কোনো দুর্বলতা আছে যা সে খুঁজে বের করতে পারবে।
লাইভ চ্যাটে ভিউয়ার্সরা আতঙ্কিত হয়ে উঠছে। কেউ কেউ বলছে তারা আর সহ্য করতে পারছে না, কেউ কেউ জানাচ্ছে তারা অদ্ভুত ছায়া দেখতে পাচ্ছে তাদের চারপাশে। পলাশ জানে, তাকে তাড়াতাড়ি কিছু করতে হবে।
পলাশ সিদ্ধান্ত নেয় যে কক্ষের প্রতিটি কোণ পরীক্ষা করবে। কিছুক্ষণ পরে, দেয়ালের এক জায়গায় একটি ছোট আলমারি দেখতে পায়, যা কিছুটা ফাঁকা হয়ে আছে। আলমারির ভেতর একটি পুরনো, পোড়া বই পড়ে আছে। বইটি হাতে নিয়ে পলাশ দেখে তার পৃষ্ঠাগুলি প্রায় ভস্ম হয়ে গেছে, তবে কিছু জায়গায় লেখা স্পষ্ট।
বইটির শেষ পৃষ্ঠায় অদ্ভুত কিছু লেখা ছিল যা সে বোঝার চেষ্টা করল—এক ধরনের প্রাচীন মন্ত্র, যা হয়তো এই রেড রুমকে সিল করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পলাশ বুঝতে পারে, এই মন্ত্রের মাধ্যমেই হয়তো এই অভিশাপকে দমন করা যেতে পারে। তবে সেই মন্ত্রটি পুরোটা নেই, কিছু অংশ ঝলসে গেছে।
পলাশ লাইভ চ্যাটে ভিউয়ার্সদের কাছে সাহায্য চায়। "বন্ধুরা, আমি এখানে একটি পুরনো বই পেয়েছি। এতে কিছু মন্ত্র আছে, কিন্তু তা অসম্পূর্ণ। কেউ কি এমন কিছু জানে যা দিয়ে আমি এই মন্ত্রটি সম্পূর্ণ করতে পারি?"
ভিউয়ার্সরা তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানায়। কেউ কেউ বলছে তাদের কাছে কিছু পুরনো গ্রন্থ আছে যেখানে এমন কিছু লেখা থাকতে পারে। একজন ভিউয়ার দ্রুতই একটি প্রাচীন সংস্কৃত মন্ত্রের লিঙ্ক শেয়ার করে, যা পলাশ সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড করে।
পলাশ সেই মন্ত্রটি পড়া শুরু করে। প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষের বাতাস ভারী হতে থাকে। তার চারপাশে অদ্ভুত আওয়াজ, হঠাৎ বাতাসের বেগ বেড়ে যায়, কক্ষের আলো বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পলাশ শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, কারণ সে জানে এটি তার একমাত্র সুযোগ।
তবে মন্ত্রটি পড়া শেষ করার আগেই কক্ষের সমস্ত বাতি একসঙ্গে নিভে যায়। পুরো ঘরটি অন্ধকারে ঢেকে যায়। পলাশ কিছু দেখতে পাচ্ছিল না, কিন্তু সে অনুভব করতে পারল যে কিছু খুব ভয়ংকর তার দিকে এগিয়ে আসছে।
হঠাৎ, তার ল্যাপটপের স্ক্রিন আবার জ্বলে ওঠে, এবং সে দেখে ক্যামেরায় ভিউয়ার্সদের মধ্যে কয়েকজনের পর্দায় একই মূর্তি ধীরে ধীরে দেখা দিচ্ছে। ভিউয়ার্সরা ভয়ে চিৎকার করছে, কেউ কেউ লাইভ স্ট্রিম বন্ধ করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।
পলাশ জানে, এটি শেষ পরীক্ষা। তাকে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রটি সম্পূর্ণ করতে হবে। সে তার সর্বশক্তি দিয়ে বাকি মন্ত্রটি পাঠ করতে শুরু করে। কক্ষের অন্ধকার যেন তাকে গ্রাস করে ফেলবে, কিন্তু পলাশ থামে না। তার কণ্ঠে দৃঢ়তা, তার বিশ্বাসে শক্তি।
শেষ শব্দটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষের ভেতর এক তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে, এবং মুহূর্তের মধ্যেই পলাশের চারপাশে সবকিছু শান্ত হয়ে যায়। বাতাসের সেই ভারী ভাবটা আর নেই, কক্ষের চারপাশে যেন এক স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে।
পলাশ তার ভিউয়ার্সদের দিকে তাকায়। সবাই যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। "আমি মনে হয় কাজটা করে ফেলেছি," পলাশ ক্লান্ত স্বরে বলে।
কিন্তু তখনই একটি মেসেজ আসে লাইভ চ্যাটে, "পলাশ, দরজার বাইরে কী যেন চলছে!"
পলাশ দরজার দিকে তাকায় এবং দেখতে পায়, অন্ধকার করিডোর থেকে এক নতুন ধোঁয়াশা ছায়া তার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। তার মনে হয়, হয়তো বিপদ শেষ হয়নি।
(চলবে...)
সন্ত্রাসের লাইভ স্ট্রিম(পাট ৩)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
173
Views
5
Likes
2
Comments
4.0
Rating