রহস্যময় কুকুর ছানা (দ্বিতীয় পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
তখন আমাদের প্রথম বর্ষের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা চলছিলো। পরীক্ষা তখন প্রায় এক মাস ধরে চলতো। তবে এক মাস ধরে পরীক্ষা চললেও মাঝখানে বেশ বিরতি থাকতো দুটো পরীক্ষার মাঝে। তো সেবার পরীক্ষা দিয়ে এসে দেখলাম পরবর্তী পরীক্ষা হতে এখনো প্রায় এক সপ্তাহের মতো বাকি। তখন বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম আজ রাতে তো আর পড়ালেখা কিছু হবে না‌‌। এদিকে পরবর্তী পরীক্ষার আগে প্রায় এক সপ্তাহের মতো বন্ধ। তাই আজ রুমমেটরা সবাই মিলে ভাবলাম যে ,ভার্সিটির ক্যাম্পাসে রাত্রি অভিযান চালানো যেতেই পারে। সেই সাথে ক্যাম্পাসে থাকা ডাব, আম চুরি করে খাওয়ার আনন্দও উপভোগ করা যাবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। ঠিক করলাম হলের ক্যান্টিনে রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে তিনজন মিলে ঠিক সাড়ে নয়টার পর বের হবো। আর ডাব পাড়ার জন্য আমরা আমাদেরই এক ব্যাচমেট সাজ্জাদকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখলাম।

সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক করার উদ্যোগ নিয়ে আমরাও সেদিন তাড়াতাড়িই রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম আর রাতে ক্যাম্পাসে অভিযান চালানোর জন্য ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সাড়ে নয়টা বাজার অপেক্ষা করছিলাম। তখন আমার রুমমেট নাজমুল আবারো সাজ্জাদকে ফোন দিয়ে বস্তা আর দা নিয়ে বের হতে বললো।

এবার আমরা তিনজন মিলে ক্যাম্পাসের ভিতরেই একটা অন্ধকার ঝোপের পাশে কদম গাছ তলায় দাঁড়িয়ে সাজ্জাদের আসার অপেক্ষা করতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলো কিন্তু তখনও সাজ্জাদকে আসতে না দেখে সিফাত একটা সিগারেট ধরালো। আর নাজমুলকে বললো সাজ্জাদকে আরেকবার ফোন করে খোঁজ নিতে যে সে কতদূর এসেছে আর তার এখানে আসতে কত সময় লাগবে। এবার নাজমুল যখন সাজ্জাদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত আর সিফাত সিগারেট টানতে ঠিক তখনই খেয়াল করলাম আমাদের পাশের ঝোপটা যেন নড়ে উঠলো।

এটা দেখে আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম। ভাবলাম অন্ধকার ঝোপের আড়ালে হয়তো সাপ বা বিষাক্ত কিছু লুকিয়ে আছে। তাই টর্চ জ্বেলে দেখতেই দেখলাম হঠাৎ করেই ঝোপের আড়াল থেকে একটা কুকুর ছানা বের হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়ালো। কুকুর ছানাটা আমাদের দিকেই নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে রয়েছে। এক মুহুর্ত দেখাতেই কুকুর ছানাটিকে আমাদের তিনজনের খুব ভালো লেগে যায়। ভাবলাম এতক্ষণের বিরক্তিকর অপেক্ষার মাঝে তবু কিছু একটা তো পেলাম সময় কাটানোর। এই ভেবেই আমি কুকুর ছানাটিকে আমাদের কাছে আসতে ডাক দিলাম। কিন্তু সে তখনও একই জায়গায় অনড় অবস্থায় দাঁড়িয়ে। ছানাটিকে নড়তে চড়তে না দেখে নাজমুল ঐ কুকুর ছানাটিকে দৌঁড়ে গিয়ে কোলে তুলে নিলো। আর আদর করতে লাগলো।


ঠিক তখনই আমরা কারো হেঁটে আসার আওয়াজ পেলাম। পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখি সাজ্জাদ এসে হাজির। হাতে দা আর বস্তা নিয়ে ছেলে পুরোপুরি তৈরি হয়েই এসেছে।

তখন সিফাত বললো-" চল এবার সবাই মিলে আগে ডাব পাড়বো তারপর আম। "

আমরা বললাম তো বেশ। এমনিতেই রাত অনেক হয়েছে। তাই আর দেরী না করে এখনই কাজে লেগে পড়ি। এই বলে আমরা সবাই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের পিছনে থাকা নারকেল বাগানের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। দিনের বেলাতেই ঐ দিকটায় খুব একটা লোকের আনাগোনা থাকে না সেখানে রাতের বেলা তো কোনো প্রশ্নই আসে না।


এই ভেবে নির্ভয়েই সবাই এগিয়ে যেতে লাগলাম ডাব পাড়ার উদ্দেশ্যে। নাজমুলও তখন ওর কোলে থাকা কুকুর ছানাটিকে নিচে রেখে আমাদের সাথে হাঁটা শুরু করলো।

এদিকে চারিদিকের পরিবেশে তখন শুনশান নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ঘন অন্ধকারে ঢাকা মাঠটাও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিলো না তখন‌। এদিকে বেশ সাবধানতার সাথেই আমরা কয়েক কদম যেতেই লক্ষ্য করলাম আমরা চারজন ছাড়াও কেউ একজন আছে যে কিনা যাত্রার শুরু থেকেই আমাদের সাথেই পা মিলিয়ে চলছে।

চলবে.......

#(গল্পটি পড়ে আপনাদের কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না এবং সেই সাথে সাথে রেটিং দিয়ে গল্পটা মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো 🥰)
362 Views
16 Likes
3 Comments
4.5 Rating
Rate this: