মুণ্ডুহীন নারী মূর্তি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
গত মাসেই গ্রামের স্কুলের চাকরিতে যোগ দিলাম। তাই নতুন এলাকায় এসে এখনো সবটা ঠিকঠাক চিনে উঠতে পারিনি।

তবে গ্রাম্য নির্জন পরিবেশ আর গ্রামের মানুষগুলোর সাথে এই অল্প দিনেই বেশ মানিয়ে নিতে শুরু করলাম। শহর থেকে আসা নতুন মাস্টার মশাই হিসেবে বেশ খাতির যত্নও করছিলো সবাই মিলে। এক কথায় অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই গ্রামের সবার প্রিয় হয়ে ওঠি তখন।

সকাল হতেই স্কুলে ছোটা আর বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টিউশনি করিয়ে বাসায় ফেরা- এ যেন নিত্য দিনের ডিউটি হয়ে দাঁড়ালো। আর এত এত ছাত্র ছাত্রীদের পড়ানোর ব্যস্ততায় নিজেকেও বেশ ব্যস্ত রাখতে শুরু করলাম।

এভাবেই ব্যস্ততার মাঝে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো।তো প্রতিদিনের মতোই হঠাৎই একদিন বের হলাম স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‌। সকাল বেলা পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল কিন্তু স্কুল ছুটি দেওয়ার কিছু মুহূর্ত আগেই আশেপাশের আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলো।

হঠাৎ করেই আকাশের চারপাশটা ঘন কালো মেঘে ছেয়ে আসলো। বুঝতে পারলাম একটু পরেই মুষলধারে বৃষ্টি নামবে। এদিকে এই বৃষ্টির মধ্যেও তো ছেলেমেয়েদের ছেড়ে দেওয়া যায় না।

এই কথাগুলো ভাবতে না ভাবতেই দেখি প্রচণ্ড মেঘ গর্জনের সাথে প্রবল ধারায় বৃষ্টি নামতে শুরু করলো। আশপাশটা মুহূর্তেই বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়লো। এভাবেই প্রায় টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টির পর আবহাওয়া একটু শান্ত হলো। আশপাশের অন্ধকার ভাবটা কেটে গিয়ে একটু পরিস্কার হলো।
এদিকে বৃষ্টিও থেমে গেলো।

তাই আর দেরী না করে ছেলেমেয়ের ছুটির সাথে সাথে আমিও বেরিয়ে পড়লাম বাজারের উদ্দেশ্যে।
কারণ একে তো বাসায় রান্না করার কিছু নেই তার ওপরে বৃষ্টির কারণে দেরী হওয়াতে টিউশনি পড়াতে গিয়েও দেরী হয়ে যাবে, তখন হয়তো আর গ্রামের হাট খোলা পাবো না।

এই ভেবেই বাজারে যাই । বাজার থেকে শাক সবজি কেনার সাথে সাথে সস্তায় এক জোড়া ইলিশ মাছও কিনে নেই। এরপর বাজার করা শেষ হলে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েই সোজা দৌঁড় লাগাই টিউশনি পড়ানোর উদ্দেশ্যে। এমনিতেই আজ বৃষ্টির জন্য সবকিছুতেই দেরী হয়ে যাচ্ছে। তো টিউশনি পড়ানো শেষ করে যখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবো তখন বাইরে এসে দেখি ঘোর সন্ধ্যা। এদিকে আমার বাড়িও খুব একটা কাছে নয়। তাই সাত পাঁচ না ভেবে সোজা বাজার হাতেই হাঁটা শুরু করলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।

একে তো গ্রাম্য পরিবেশ তার ওপরে আজ হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা ঘাট সব কাঁদায় মাখামাখি। তার ওপরে রাস্তায় একটা ভ্যান বা রিকশা নেই। তাই নিরুপায় হয়ে হাঁটা ছাড়াও আর কোনো উপায় ছিল না। ভাবছিলাম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িতে ফেরা যায়।

কিন্তু বিধি বাম। কিছুদূর যেতে না যেতেই দেখি আবার আকাশ ভারী হয়ে এসেছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আর দুয়েক মিনিট দেখতে না দেখতেই আবার অঝোরে বৃষ্টি নামলো। এবার উপায়!

আশেপাশে তাকিয়ে কাউকেই রাস্তায় দেখতে পাচ্ছি না। তাই পাশে থাকা একটা দোকানেই আশ্রয় নিলাম বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে। দোকানে ঢুকতে না ঢুকতেই দেখি গ্রামের মেম্বার ঐ দোকানে বসে।

আমাকে দেখতেই তিনি ডাক দিয়ে বললেন-
" আরে মাস্টার মশাই। আপনি এত রাতে এই রাস্তায়!"

বললাম -" বৃষ্টির কারণেই টিউশনি করিয়ে ফিরতে আজ একটু দেরী হয়ে গেলো"

তখন মেম্বার বললেন -" বেশ তো। দুয়েক দিন একটু আধটু দেরী হতেই পারে। তা এই ঠাণ্ডা পরিবেশে এক কাপ গরম চা খান। দেখবেন চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। "

আমিও তার প্রস্তাবে সম্মতি জানালাম। এদিকে তখনও বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই থামার নাম গন্ধ নেই। তাই চা খেতে খেতে বেশ কিছুক্ষণ মেম্বারের সাথে কথা বলে সময় পার করলাম। প্রায় বেশ কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামলো। এবার আমাকেও বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই মেম্বারের থেকে অনুমতি নিয়েই আবার বেরিয়ে পড়লাম রাস্তায়।

চারদিক তখন নির্জনতায় ঘেরা। এমনিতেই কিছু আগে তুমুল বেগে বৃষ্টি হয়েছে তার ওপরে রাত প্রায় সাড়ে সাতটার কাছাকাছি। গ্রামের তো আবার সাতটা আটটাই বেশ গভীর রাত। আশপাশে তখন জন মানবের ছিটেফোঁটা নেই। পরিবেশ এতটাই নিস্তব্ধ আর গা ছম ছমে যে ভয় লাগাটাই স্বাভাবিক।

এদিকে বেশ রাত হয়ে যাওয়ায় আমার মাথায় তখন একটাই চিন্তা কেবল - যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িতে ফেরা যায়। এই ভেবে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম জঙ্গলের ভিতর দিয়ে শর্টকাট রাস্তা ধরে হাঁটার। কারণ সোজাসুজি রাস্তা ঘুরে যেতে আমার প্রায় তখনও ঘন্টা খানেক পথ বাকি। এদিকে শর্টকাট রাস্তা দিয়ে গেলে হয়তো বিশ-পঁচিশ মিনিট আগেই বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো।

তো যেই ভাবা সেই কাজ। এই ভেবেই ঈশ্বরের নাম স্মরণ করে ঐ জঙ্গলের রাস্তায় হাঁটা শুরু করলাম। এদিকে রাস্তাতেই তো মানুষের কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছিলো না তাই জঙ্গলে কারো সাক্ষাৎ পাওয়া তো কল্পনাতীত। আবার একা একা এই গ্রাম্য নির্জন পরিবেশে হাঁটতেও বেশ ভয় লাগছিলো। এই সব চিন্তা ভাবনা করতে করতেই ঐ ঠাণ্ডা পরিবেশেও আমার কপালে দুশ্চিন্তার ঘাম জমতে শুরু করলো।

এবার জঙ্গলের মধ্যে কিছুদূর হাঁটার পরেই অন্ধকারে যেন পথ হারিয়ে ফেলেছি। চারপাশে শুধু জংলী গাছ পালা আর ঝোপঝাড়। এমন একটা অবস্থায় রাস্তা হারিয়ে ফেলাটা তো আরো বিপজ্জনক। তখন ফোন বের করে দেখি রাত প্রায় আটটা। আধঘন্টার মতো হেঁটেও কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। এমনকি কোন পথে এসেছি তাও বুঝতে পারছি না।

একে তো গ্রামে নতুন। এক মাস হলো মাত্র এসেছি। সম্পূর্ণ গ্রামের রাস্তা ঘাট এখনো ভালো করে চেনা হয়ে ওঠেনি। এমতাবস্থায় হুট করে জঙ্গলের রাস্তায় আসা আমার উচিত হয় নি-এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ যেন কোনো নারী কণ্ঠের আওয়াজ পেয়ে আমার টনক নড়ে উঠলো।

ঘুরে দেখি এক অজ্ঞাত অপরিচিত নারী মূর্তি আমার সামনে দাঁড়িয়ে।

চলবে..........

***(গল্পটা কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না। আর আপনার কি মনে হয় পরবর্তীতে কি ঘটতে চলছে?? লিখে ফেলুন কমেন্ট বক্সে)
805 Views
27 Likes
4 Comments
4.7 Rating
Rate this: