শ্মশান ঘাটের ভয়ানক রাত

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আজ দুপুরে ছোট মামা আসবে বলে পেটে ব্যথার অজুহাত দিয়ে স্কুল কামাই করেছি‌ ‌। সেই সকাল থেকেই অধীর আগ্রহে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি মামার আগমনের অপেক্ষায়। কিন্তু সময় কিছুতেই কাটছে না। অনেকক্ষণ ধরে দুয়ার ধারে বসে অপেক্ষা করার পরেও যখন মামার আসার কোনো নাম গন্ধ নেই, তখন ভাবলাম ছাদে গিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করি।

ছাদে কিছুক্ষণ পায়চারি করতে করতেই হঠাৎ কলিং বেল বাজার আওয়াজ পেলাম। কলিং বেল বাজার আওয়াজ পেতেই এক ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দেখি ছোট মামা সামনে দাঁড়িয়ে।


অতি আনন্দে মামাকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর মামার হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে মা কে ডাক দিলাম। এদিকে মামা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার পর- আমার জন্য মামাবাড়ি থেকে আনা উপঢৌকনসমূহ হস্তান্তর করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। বেশ কিছুক্ষণ কাটলো মামার সাথে গল্পগুজব করে।

মামা খুব গল্পরসিক মানুষ। তার সাথে গল্প করতেও বেশ আনন্দ। গল্প করতে করতেই মায়ের ডাক আসলো খাবার টেবিল থেকে। অগত্যা গল্পের আসরে ছন্দপতন ঘটিয়ে দুজনেই চলে গেলাম দুপুরের খাবার খেতে ‌। খাবার টেবিলে বসেও মামার কাছ থেকে মামা বাড়ির আরো অনেক গল্প শুনলাম।

খাওয়া দাওয়া শেষে মামার কাছে বায়না করলাম বিকালে দুই মামা ভাগ্নে একসাথে ঘুরতে যাবো। মামাও তাতে সম্মতি দিলেন। অবশেষে ঠিক করলাম দুই মামা ভাগ্নে মিলে নদীর পাড়ে ঘুরতে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ।

বিকালে বেরিয়ে পড়লাম ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্যে। নদীর পাড়ে বেশ কিছুক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলো। সন্ধ্যা হতে না হতেই নদীর পাড়ের নির্জনতা আরো ঘন হয়ে এলো, আশেপাশে তেমন লোক সমাগম না থাকায় ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাকও বেশ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো। সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীর জল দেখাচ্ছিলো ঘন কালো তারই সাথে দূর দূরান্তে কোনো নৌকার অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছিলো না।

মামা আর আমি নদীর পাড় ধরে আরো বেশ কিছুক্ষণ হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ দেখি কিছু লোক মরা পোড়ানোর জন্য নদীর ধারের শ্মশান ঘাটে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামাকে ডেকে দেখাতেই মামা যেন কেমন একটু অপ্রস্তুত বোধ করলো। বললো-
" আজ আর হেঁটে কাজ নেই। চলো বাসায় ফিরে যাই। আর তাছাড়াও এই ঘোর সন্ধ্যা বেলায় শ্মশান ঘাটে ঘোরাঘুরিও করা উচিত নয়।"

আমি মামাকে জিজ্ঞেস করলাম-" কেনো মামা, তুমি কি ভয় পাচ্ছো সন্ধ্যার সময় শ্মশান ঘাটের কাছাকাছি থাকতে?"

মামা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর নীরবতা ভেঙ্গে বললো-" এই শ্মশান ঘাট নিয়ে আমার জীবনে এক ভয়ঙ্কর অতীত রয়েছে‌ যেটা মনে করলে আজো ভয়ে আমার গা-হাত- পা ভয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যায়।"

একথা শোনার পর অতি আগ্রহের সহিত মামাকে জিজ্ঞেস করলাম কি সেই ঘটনা।

মামা বললো- "পরে বলবো, এখন আপাতত বাড়ি ফিরি"।

মামা আর কিছুই বললো না। আমিও আর কোনো আপত্তি না করে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দিলাম। তবে সারাটা রাস্তায় মামাকে কেমন যেন অদ্ভুত আর অন্যমনস্ক লাগছিলো। মামা সারাটা পথ আর কোনো কথা বললো না‌। অন্যমনস্ক হয়ে চুপচাপ বসে রইলো দেখে মনে হচ্ছিল কিছু একটা নিয়ে গভীর চিন্তা করছে। এদিকে মামার না বলা সেই ভয়ঙ্কর অতীতের অজানা ঘটনা জানার জন্য আমারও কৌতূহল বাড়তে লাগলো। কিন্তু সারাটা রাস্তায় মামাকে আর কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।

বাড়িতে ফিরেই দেখি মা আমাদের জন্য গরম গরম পাকোড়া আর চা বানিয়ে রেখেছে। তারপর রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়েই খাবার টেবিলে বসে পড়লাম আর একসাথে সবাই মিলে চা আর পাকোড়া খেলাম। এদিকে তখনও মামা একটু অন্যমনস্ক ছিল। তাই পাকোড়া খাওয়ার পর মামার সাথে দাবা খেলতে বসে গেলাম। এদিকে মা ও রাতের খাবারের আয়োজন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

দাবা খেলতে খেলতে রাত তখন প্রায় সাড়ে আটটা। মামার দেওয়া একটা কঠিন চালের জবাব দেওয়ার জন্য গভীর চিন্তায় যখন ডুবে গিয়েছিলাম তখনই মায়ের ডাক কানে আসতেই চিন্তার অবসান ঘটলো।

শুনতে পেলাম মা খাবার টেবিলে খেতে ডাকছে। কি আর করার দাবা খেলার অমীমাংসিত ফলাফল নিয়েই উঠে যেতে হলো খেলা ছেড়ে। এদিকে রাতের খাওয়া দাওয়ার পর ঠিক করলাম আজ রাতে আমি মামার কাছেই ঘুমাবো ‌। এতে কারোরই আর বিশেষ কোনো আপত্তি না থাকায় আমারই সুবিধা হলো আর মনে মনে ভাবলাম এইতো সুযোগ মামার কাছ থেকে সেই না বলা গল্পটা শোনার‌।

সময় যতই যাচ্ছিলো আমার কৌতূহলের পারদও ততই উপরে উঠতে লাগলো। রাতে মামার কাছে শুয়ে আবদার করলাম বিকালের সেই না বলা গল্পটা বলতে। কিন্তু মামা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলো না। কথা প্রসঙ্গে বার বার গল্প বলার আবদারটা এড়িয়ে যেতে চাইলো। অবশেষে আমার মতো নাছোড়বান্দার কাছে মামাকে পরাস্ত হতেই হলো।

মামা বললেন -" ভয় পাবি না তো?"।

আমি বললাম-" কিসের ভয় ! তুমি তো সাথেই আছো। আর ভয় লাগলেও আমি শুনতে চাই সেই গল্পটা। তুমি বলো তো"।

একথা শুনে মামা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো শোন তবে-


এ অনেক আগের ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার কলেজ জীবনের শুরুতে। তখন আমি মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সবেমাত্র শহরের নতুন কলেজে পা রেখেছি‌। শহরের কলেজটা আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে বহুদূরে হওয়ায় পড়াশোনার সুবাদে কলেজ হোস্টেলেই আমাকে থাকতে হলো।

যদিও শহরের কলেজ তবে কলেজটা ছিল শহরের একদম শেষ প্রান্তে যার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ময়ূরাক্ষী নদী। শহরের কোলাহল থেকে বেশ খানিকটা দূরে থাকায় কলেজের আশেপাশের পরিবেশটা ছিল একদমই নির্জন আর গ্রাম্য। তেমন লোকালয়েরও অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু পরিবারের থেকে এতদূরে এই নির্জন কলেজে আমার কখনো একাকীত্ব বোধ হয় নি। তার কারণ হলো আমার মতোই এমন আরো অনেক বন্ধু বান্ধব কলেজের হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করতো।

আমরা একসাথেই থাকতাম তাই অল্প সময়ের মধ্যেই সবার সাথে বেশ বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। একসাথে কলেজ করা, ক্লাস শেষে হোস্টেলে ফিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, হৈ হুল্লোড় করার মধ্য দিয়ে সময়টা বেশ ভালোই কাটছিলো। অল্প দিনের মধ্যেই নতুন পরিবেশে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলাম।

সবকিছুই বেশ ভালো ছন্দেই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে যায় ভয়ঙ্কর এক রাতের অভিজ্ঞতায়।

তখন আমাদের কলেজে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছিলো। কাজেই কলেজ হোস্টেলের অধিকাংশ বন্ধু- বান্ধব বাড়িতে চলে যাওয়ায় হোস্টেল প্রায় ফাঁকা।পড়ে আছি আমরা হাতে গোনা দুয়েকজন।

আমিও অবশ্য দুদিন পরেই বাড়িতে যেতাম। কিন্তু কলেজের একটা প্রাক্টিক্যালের কাজ বাকি থাকায় আমার আর যাওয়া হয়ে উঠলো না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে ফেঁসে গিয়েই বাড়ি ফিরতে দুদিন পিছিয়ে পড়লাম। কি আর করার।

তো যেদিন থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হলো ঐদিন বিকালে আমরা পরিচিত কিছু বন্ধু বান্ধব মিলে কলেজের মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। বেশ কিছু সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বলার পর হঠাৎ করেই কথা প্রসঙ্গে ভূত প্রেতের কথা উঠে আসলো। তখন প্রায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা।

এমন সময় আমাদের এক বন্ধু রনি বলে উঠলো-" জানিস না, সন্ধ্যার সময় এসব কথা নিয়ে আলোচনা করতে নেই! ভাই এখন এসব গল্প বাদ দে। সন্ধ্যার সময় তেঁনাদের নাম নিতে নেই"। রনির ভয়ে ভীত অবস্থা আর ওর এসব কথা বার্তা শুনে আমরা বাকি বন্ধুরা ওকে নিয়ে বেশ মজা নিলাম। তখন রনি রাগ করে আমাদের মাঝ থেকে উঠে চলে গেল।

এবার আমরা মাত্র তিনজন বন্ধুই কলেজের মাঠে বসে ছিলাম। এদিকেয় তখন ঘোর সন্ধ্যা। ঘন অন্ধকারে চারপাশে তেমন কিছু দেখাও যাচ্ছিলো না। তখন সেতু একটা সিগারেট ধরিয়ে বলতে লাগলো- " জানিস তো, আমাদের কলেজের সীমানা পেরিয়ে নদীর ধার ঘেঁষে যে পুরানো শ্মশানঘাট আছে সেটা নিয়ে তো এখানকার স্থানীয়দের মাঝে অনেক ভৌতিক কাহিনী প্রচলিত। এমনকি অনেকে নাকি ঐ শ্মশান ঘাটের বহু অলৌকিক ঘটনার সাক্ষীও রয়েছে। তাই নাকি এখন আর ঐ পথে ভুলেও কেউ পা বাড়ায় না।"

এ কথা শুনেই আমি বলে উঠলাম - " চলো তাহলে আজকে রাতে সবাই মিলে ঐ পুরানো ভৌতিক শ্মশান ঘাটে অভিযান চালানো যাক ।"

আমার কথা শোনা মাত্রই সকলের চোখে মুখে বিস্ময় ফুটে উঠলো। সেতু বলে উঠলো- " পাগল নাকি! যেখানে মানুষ দিনের বেলা যেতে ভয় পায় সেখানে আমরা কিনা রাতে যাবো ভূতের হাতে মারা পড়তে। আর তাছাড়াও এত রাতে হোস্টেল থেকে বাইরে গিয়ে ধরা পড়লে হোস্টেল সুপার আর আমাদের আস্ত রাখবে না। "

সেতুর কথায় সায় দিয়ে পরিমল বলে উঠলো- " ঠিকই তো। কি দরকার সুখে থাকতে ভূতের কিল খাওয়ার। আর তাছাড়াও যা রটে তার কিছু তো বটে। কাজেই আমরা কেউ যাচ্ছি না ঐ ভুতুড়ে শ্মশানঘাটে।"

তখন আমি হেসে বলে উঠলাম- " তো বেশ , তোমরা কেউ সাথে না যাও তবে আমি একাই যাবো ঐ শ্মশান ঘাটে। আর সেখানে রাত কাটিয়ে এটাও প্রমাণ করে দেবো যে গ্রামবাসীদের রটানো কথা সব মিথ্যে।"

এ কথা শোনার পর ওখানে উপস্থিত বন্ধুরা সব আমাকে অনেকবার বারণ করেছিলো অবশ্য কিন্তু তখন তরুণ বয়স, রক্ত গরম ছিল। তাই কারো কথায় কান না দিয়ে, কোনো পরিণতি না ভেবেই এই হঠকারী সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। তবে এখনো মনে হয় সেদিন হয়তো ওদের কথা মেনে নিলেই তা মঙ্গল হতো আমার জন্য। তাহলে হয়তো ওরকম একটা ভয়ানক রাতের মুখোমুখি হতে হতো না আমাকে।

তো যাই হোক আমিও তখন জেদ করে বসি যে আজ রাতে আমি যাবোই ঐ শ্মশান ঘাটে এবং সেখানে গিয়েই রাত কাটাবো। তবে সবথেকে বড় বাঁধা হলো হোস্টেল সুপার রণজিৎ স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে অতো রাতে বাইরে বের হওয়াটা। তাই ঠিক করলাম রাতে খাওয়া দাওয়ার পরে যখন আমাদের রুমে চেক করতে আসবেন স্যার ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই আমরা কয়েকজন মিলে হোস্টেলের পিছনের ভাঙা পাঁচিল টপকে পালাবো।

এদিকে রাতের খাওয়া দাওয়ার আগে শ্মশান ঘাটে রাত কাটানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আর যাবতীয় জিনিসপত্র গোছগাছ করে রাখলাম। রুমমেটরা আমাকে যাওয়ার আগে আবারো নিষেধ করলো এসব পাগলামি করতে। সবাই মিলে বললো আরেকবার ভেবে দেখতে। এর পরিণতি খুব ভয়ানক হতে পারে।

আমি তখন বললাম -" একবার যখন যাবো বলে ঠিক করেছি তখন আমি যাবোই । পরিণতি নিয়ে ভাবনা করার আর সময় নেই"। এক পর্যায়ে বন্ধুরা সব নিরাশ হয়ে গেলো। ওদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে সাহায্য করলো হোস্টেলের পিছন থেকে পালিয়ে যেতে।

রাতে খাওয়া দাওয়ার পরে রাত যখন প্রায় সাড়ে নয়টা কি পৌনে দশটার কাছাকাছি তখনই আমি, সেতু আর পরিমল হোস্টেলের পিছনের ভাঙা পাঁচিল টপকে বেরিয়ে পড়লাম শ্মশান ঘাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।

যদিও রাত নয়টা কি দশটা তবে আশেপাশের নির্জনতা দেখে মনে হচ্ছিলো তখন মধ্যরাত। ধারে কাছে কোথাও জন মানবের চিহ্ন তো দূরের কথা, রাস্তায় কিবা নদীর পাড়ে একটা কুকুর বিড়ালও নেই। তাছাড়াও দুদিন বাদেই অমাবস্যা তাই রাতের অন্ধকারের তীব্রতাও বেশ। চারপাশে এতোটাই অন্ধকার যে টর্চ লাইট ছাড়া সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিলো না। এক কথায় খুব শুনশান পরিবেশ। তবে গ্রীষ্মের গরমে নদীর পাড়ের ঠাণ্ডা বাতাস খুব একটা মন্দ লাগছিলো না।

সারাটা রাস্তায় আমরা বন্ধুরা তেমন একটা কথা বললাম না সকলেই অধীর আগ্রহে শ্মশান ঘাটে পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে বেশ খানিকটা সময় হাঁটাহাঁটির পর শ্মশান ঘাটের এলাকায় এসে আমরা পৌঁছালাম। তবে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নদীর পাড়ের যেই ঠাণ্ডা বাতাসটা একটু আগেই ভালো লাগছিলো, সেই নদীর পাড়ের বাতাসই এখন শ্মশান ঘাটে কেমন যেন ভারী হয়ে উঠলো।

শ্মশান ঘাটের চারপাশের পরিবেশটা এক দৃষ্টিতে দেখে যতটুকু মনে হলো তা কোনো হরর মুভির সিনের থেকে কম ভয়ঙ্কর নয়। জঙলি ঝোপঝাড়, বিস্তর জনশূন্য এলাকা, আধপোড়া কাঠের গন্ধ তার ওপরে ছড়ানো ছিটানো নর কঙ্কালের হাড়, খুলি দেখে যে কারো পিলে চমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া রাতের অন্ধকারে শ্মশানে থাকা গাছগুলোকে দেখতেও বেশ অস্বাভাবিক লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো যেন প্রকাণ্ড দানব নৈশ প্রহরীর মতো জেগে আছে কোনো আগন্তুককে গিলে খাওয়ার অপেক্ষায়।সবমিলিয়ে সে যেন এক ভয়ানক পরিবেশ যা কিনা শব্দের সীমারেখায় বোঝানো মুশকিল।

এসব দেখে বাকি বন্ধুরা আবারো আমাকে অনুরোধ করলো এসব পাগলামি বাদ দিয়ে হোস্টেলে ফিরে যেতে। আমিও মনে মনে ভাবলাম এমন ভয়ানক পরিবেশে রাত না কাটানোই শ্রেয়। আর তাছাড়াও তখন আশেপাশে কুকুর শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছিলো। তাই ভাবলাম জায়গাটা খুব একটা নিরাপদও নয়। জংলী হিংস্র পশুরও উপস্থিতি অনুমান করেছিলাম তখন।

ভাবলাম ওদের সাথে ফিরেই যাই কিন্তু পরোক্ষণেই মনে হলো সন্ধ্যার সময় বন্ধুদের কাছে বড় মুখ করে বলে এসেছি যে আজকে রাতটা শ্মশান ঘাটেই কাটাবো। সেখানে যদি আমিই ভয় পেয়ে হোস্টেলে ফিরে যাই তাহলে আমার বন্ধুরাই আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে। দিনশেষে আর যাই হোক বন্ধু বান্ধবদের হাসির পাত্র হওয়া যাবে না এই ভেবে আমি তখনই ওদের বললাম ওরা যেন আমাকে এখানে রেখে হোস্টেলে ফিরে যায়। আর আমি আগামীকাল সকালেই হোস্টেলে ফিরবো, এখন নয়।

বন্ধুরা আমাকে অনেক বোঝানোর পরেও আমার একগুঁয়ে জেদের কাছে হার মানলো আর নিরাশ হয়ে খালি হাতেই ওদের হোস্টেলে ফিরতে হলো‌। ওরা অবশ্য যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেল যে কোনো সমস্যা হলেই যেন ওদেরকে ফোন করি। এই বলে আমাকে একটা লাঠি আর একটা টর্চ লাইট হাতে দিয়ে ওরা যথারীতি ঐ স্থান থেকে প্রস্থান করলো। মুহূর্তের মধ্যেই ঐ ঘন অন্ধকারে ওদের চিহ্ন মিলিয়ে গেল।

এবার এই নিস্তব্ধ ভয়ানক শ্মশান ভূমির শত শত চিতা আর মরার মাঝে আমি এক জীবন্ত মানুষ দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেন একটা ভয়ানক অনুভূতি অনুভূত হতে লাগলো। রাত বাড়ার সাথে সাথে অন্ধকারের তীব্রতা আর নিস্তব্ধতা নদীর পাড়ে থাকা শ্মশান ভূমিকে যেন ক্রমশ ভয়ানক করে তুলছে।

আমি ভাবলাম দাঁড়িয়ে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি করি। এই ভেবেই হাঁটতে হাঁটতে শ্মশানের আরো ভিতরে প্রবেশ করতে লাগলাম। টর্চ মেরে আশপাশটা ভালো করে দেখতেই চোখে পড়লো আধপোড়া চিতা কাঠ, ভাঙা হাঁড়ি আর শত শত কঙ্কালের হাড়, মাথার খুলি 💀। এসব দেখে হঠাৎ করেই যেন গা টা ভার হয়ে উঠলো।

জনমানবশূন্য নির্জন শ্মশান ভূমির পাশে থাকা ময়ূরাক্ষী নদীর স্রোতের শব্দ তখন আরো স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো। আর মাঝে মাঝেই ভেসে আসছিলো ভুতুম পেঁচা, শকুনের ডাক। তখন আমার বেশ ভয় ভয় করছিলো। কারণ শ্মশান ভূমির আশেপাশে ঘন জঙ্গল বিশাল বিশাল গাছপালা পরিবেশটাকে আরো ভৌতিক করে তুলেছিলো।

এমন সময় শ্মশানের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই মনে হলো কেউ যেন আমার পিছনে আমাকে অনুসরণ করে হাঁটছে। নিজের ছাড়াও আমি ঐ স্থানে তখন আরো অন্য কারো উপস্থিতি অনুভব করলাম। তখন ভাবতে লাগলাম আমি ছাড়া এই নিস্তব্ধ ভয়ানক শ্মশান ভূমিতে আর কে আসতে পারে। নিজের মনের সাথে দ্বন্দ্ব করতে লাগলাম পিছনে ফিরে তাকাবো কিনা বা তাকানো ঠিক হবে কিনা।


অবশেষে সাহস করে ঘাড় ঘুরে তাকাতেই দেখি পিছনে কেউ নেই। সেখানে কোনো মানুষের বা প্রাণীর চিহ্ন তো চোখে পড়লো না তবে চোখে যেটা পড়লো সেটা ছিল বেশ ভয়াবহ।

দেখলাম একটা প্রকাণ্ড অশ্বত্থ গাছ যার ডালে কিনা বসে আছে একটা ভুতুম পেঁচা ‌। রাতের অন্ধকারে পেঁচাটার চোখ দুটো বেশ ভয়ানক লাগছিলো। তবে গাছটা দেখে আমি রীতিমতো একটু অবাকই হই। কারণ এই পথ দিয়ে একটু আগেই আসার সময় এত বড় গাছ তো চোখে পড়লো না তাহলে হঠাৎ করেই বা এই গাছটি আসলো কোথা থেকে। পরোক্ষণেই আবার নিজকে নিজে বুঝ দিলাম হয়তো অন্ধকার থাকায় ঠিকমতো খেয়াল করতে পারিনি‌। কিন্তু এতো বড় চোখের ভুল হলো এ কথা যেন মনটাকে মানাতেই পারছি না।

তবে ভাবলাম এই ভয়ঙ্কর পরিবেশে রাত্রি যাপনের সাক্ষীস্বরূপ গাছটাকে ক্যামেরাবন্দি করা যাক। তাই গাছটার ছবি তুলতে পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই দেখি গাছের ডালে থাকা ভুতুম পেঁচাটা নেই। ভাবলাম হয়তো উড়ে গেছে। তাই সাতপাঁচ না ভেবে গাছটার বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম। এরপর যখন চেক করতে গেলাম যে অন্ধকারে তোলা গাছের ছবিটা কেমন কি হয়েছে তখন গাছের ছবিটা দেখে আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো।

দেখলাম ফোনে থাকা গাছের ছবিতে ঐ অশ্বত্থ গাছের ডালে যে ডালটাতে কিনা কিছুক্ষণ আগেই ভুতুম পেঁচাটাকে দেখলাম সেখানে সাদা কাপড়ে জড়ানো একটা লাশ ঝুলছে। এটা দেখে আমি ভয় ভয় করে তাকাতেই দেখি গাছের ডালে কোথাও কোনো লাশ নেই‌। আমার এখন যেন মাথাই কাজ করছে না। কি করবো বুঝতে পারছি না। আশেপাশে তাকাতেই যতদূর চোখ যায় শুধু ভয়ঙ্কর ঘন জঙ্গল। এই মুহূর্তে এমন একটা জায়গায় কি করবো ভাবতে ভাবতেই দেখি আমার থেকে আট দশ হাত দূরে অন্ধকারে থাকা ঝোপটা যেন নড়ে উঠলো।

আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম আর ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে রইলাম ঝোপটার দিকে‌। টর্চ মেরে লাঠি হাতে আমি ঝোপটার দিকে দু পা এগোতেই দেখি একটা কালো বিড়াল ঝোপ থেকে বেরিয়ে এলো। বিড়ালটার চোখ দুটো জ্বল জ্বল করছে আগুনের গোলার মতো। আর ওর মুখে লেগে আছে রক্ত। এরকম একটা দৃশ্য দেখবো কল্পনাও করতে পারিনি। এ দৃশ্য দেখে ভয়ে আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেলো।


হাতে লঠিটা দিয়ে ভয় দেখিয়ে যতই বিড়ালটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করছি ততই যেন বিড়ালটা আরো হিংস্র হয়ে ভয়ঙ্করভাবে দাঁত খিচুনি দিচ্ছে আমার দিকে তাকিয়ে।ভাবলাম এবার অনেক হয়েছে‌। এই ভয়ঙ্কর শ্মশানভূমিতে আর এক মুহূর্তও নয়।

তাই ফোন বের করে যেই না সেতুকে ফোন দিতে গেলাম তখনই দেখি ফোনের নেটওয়ার্ক নেই‌‌ । এখন কি উপায়? ওদের কাছে খবরই বা পাঠাবো কিভাবে? এসব ভাবতে ভাবতেই হতাশ হয়ে পড়লাম। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম যা হবে দেখা যাবে আপাতত এই শ্মশান ভূমি থেকে বাইরে তো বের হই। কিন্তু যেদিকেই তাকাচ্ছি শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল। কোন পথে এসেছি সেই পথটাও রাতের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি। এদিকে থেকে থেকেই ওঠা শিয়ালের আর্ত চিৎকার ভয়টাকে যেন আরো বাড়িয়ে দিলো।

এইসব অদ্ভুত কাহিনীর ঘোরে খেয়ালই করতে পারিনি আমি শ্মশান ঘাটের কতটা গভীরে চলে এসেছি। গোলক ধাঁধার মতো পথ হারিয়ে বার বার যেন একই জায়গায় সেই অশ্বত্থ গাছ তলায় এসে পড়ছিলাম। কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না এমনকি সাহায্য চাওয়ার মতোও কোনো লোক বা উপায় ছিল না তখন।

এমন সময় হঠাৎ টের পেলাম কেউ যেন আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি চমকে উঠলাম আর ভাবতে লাগলাম এই নির্জন শ্মশান ঘাটে এতো রাতে আমাকে কে ডাকবে আর এই ভয়ানক স্থানে আমি ছাড়া আর কেইবা আছে। ও হয়তো আমার মনের ভুল। কিন্তু পরোক্ষণেই আবার আমাকে সেই পরিচিত কণ্ঠে নাম ধরে ডাকতে লাগলো। এবার আমি ভাবলাম এ নিশ্চয়ই নিশির ডাক হবে হয়তো।

এই ভাবতে ভাবতে একটা তীব্র পঁচা গন্ধ নাকে ভেসে আসলো আর অনুভব করলাম কেউ যেন আমার ঘাড়ের কাছে খুব ঠাণ্ডা নিঃশ্বাস ছাড়ছে। আমার গা ঘামছে তখন কি করবো বুঝতে পারছি না। হৃদস্পন্দন বেড়েই চলেছে। হঠাৎই আমার ঘাড়ে কেউ হাত রাখলো টের পেলাম। পিছন ঘুরে তাকাতেই যা দেখলাম তা দেখার পর আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল। যা দেখলাম তা এতোটাই ভয়ানক যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

দেখলাম আধপোড়া একটা লাশ ,যার চোখের কোটর গুলো ছিল মনি শূণ্য যেন শকুনের দল ঠুকরে খেয়েছে। গায়ের মাংস খুবলে খেয়েছে শিয়াল কুকুরের দল। আর মুখের আধাপোড়া বীভৎস চেহারা দেখেই আমি চিৎকার করে উঠলাম ‌। এক মুহুর্তের জন্য যেন হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলো। আমি হাতের লাঠিটা ফেলে টর্চ হাতেই জঙলের বুক চিড়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে প্রাণপণে ছুটতে লাগলাম। পিছন থেকে তখনও একটা অপার্থিব ভয়ঙ্কর হাসি শোনা যাচ্ছিলো।


আমি একছুটে বহুদূর এসে দম ছাড়লাম আর হাঁপাতে হাঁপাতে অনুমান করতে লাগলাম এখন ঠিক কোথায় আছি। এক মুহুর্তের জন্য যেন শ্মশানঘাট এলাকা পুরো নিশ্চুপ হয়ে গেলো। কোথাও কোনো শব্দ নেই‌। এমন সময় হঠাৎই আবার কারো শুকনো পাতার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার আওয়াজ পেলাম। ভাবলাম এখনো আমি নিরাপদ নই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পথ খুঁজে এই অভিশপ্ত শ্মশান ভূমি থেকে আমাকে পালাতেই হবে। এই ভেবে যেই না হাঁটা দেবো তখনি দেখলাম আমার সামনে চার পাঁচ হাত দূরে একটা লাশ সাদা কাপড়ে জড়ানো। আর এটা সেই লাশ যেটা কিনা ঐ অশ্বত্থ গাছের ডালে ঝুলতে দেখেছি। ভয়ে আমি নির্বাক হয়ে যাই।

ঘন ঘন শ্বাস ফেলে বুকে বহু সাহস সঞ্চয় করে লাশটার দিকে এগোতেই একটা দমকা বাতাস এসে লাশের মুখের ওপরে থাকা সাদা কাপড়টা সরিয়ে দিলো। এরপর যা দেখবলাম তা হয়তো স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি‌। ঐ লাশটার মুখ দেখা মাত্রই যেন আমার মাথার ওপর বাজ পড়লো।

কারণ আমার সামনে থাকা ঐ লাশটা আর কারোর না ওটা স্বয়ং আমার নিজেরই লাশ।নিজের চোখের সামনে নিজেরই লাশ দেখে এতোটাই আশ্চর্য আর ভীত হই যে আমি বুঝতেই পারলাম না এটা স্বপ্ন নাকি সত্যি। কয়েক মুহুর্তের জন্য আমি পাথরের মূর্তির মতো নিথর হয়ে রইলাম। তখনই আবারো সেই ভয়ঙ্কর আর অপার্থিব হাসির আওয়াজে যেন আমার নিষ্প্রাণ মূর্তি অনুভূতি ফিরে পেল। ঐ ভয়ানক পৈশাচিক হাসির শব্দে শ্মশানের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠলো। এবার যেন একটা নয় বরং অনেকগুলো ছায়ামানবের আওয়াজ একত্রে শুনতে পেলাম। সকলেই বলে উঠলো- " তোমার এখানে আসা কিছুতেই উচিত হয়নি। ফিরে যাও..... ফিরে যাও........" তারপর আর কিছুই মনে নেই আমার।
মুহূর্তের মধ্যেই যেন চোখের সামনে সবটা অন্ধকার হয়ে গেলো । আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।


পরদিন জ্ঞান ফিরে পেয়ে আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের বিছানায়‌। আশেপাশে তাকাতেই দেখি হোস্টেল সুপার রণজিৎ স্যার পাশে বসে আর তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে রতন,রনি,পরিমল আর সেতু। বুঝতে পারলাম কালকের রাতের ঐ ভয়াবহ ঘটনার পরেও হয়তো সৌভাগ্যক্রমে এখনো বেঁচে আছি। কিন্তু ভূতের হাত থেকে বাঁচলেও ভয় হচ্ছিলো তখন স্যারের হাত থেকে কিভাবে বাঁচবো এই নিয়ে। কারণ স্যারের চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো তিনি আমার ওপর বেজায় চটে আছেন গতকাল না বলে হোস্টেল থেকে চুপি চুপি বেরিয়ে গিয়ে এরকম একটা কেলেঙ্কারি বাধানোর জন্য। কিন্তু অসুস্থ থাকায় তখন স্যার কিছু বলেননি । পরে অবশ্য স্যারের কাছে অনকে অনুরোধ করে ক্ষমা চাওয়ার পর সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছি‌।

কিন্তু ঐ দিন রাতে শ্মশানে অজ্ঞান হওয়ার পর আমাকে ওরা কিভাবে পেল জিজ্ঞেস করাতে বন্ধুরা বললো আমাকে শ্মশানের কাছেই রাস্তায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ওখানকার স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয় আর আমার ফোন থেকেই নাকি ওদেরকে তারা খবর দেয়।

তবে একটা প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আজও ধোঁয়াশা। সেটা হলো যে ঐদিন রাতে তো আমি শ্মশানের জঙ্গলে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম তাহলে আমাকে রাস্তার ওপরেই বা কে নিয়ে আসলো। তবে যাই হোক ঐ ভয়ঙ্কর রাতের কথা আজও মনে পড়লে ভয়েতে আমার গলা শুকিয়ে যায়। মাঝে মাঝে তো নিজের কাছেই অবাক লাগে কিভাবে ঐদিন রাতে ঐ ভয়ঙ্কর শ্মশানভূমি থেকে বেঁচে ফিরলাম। তাই এখনো কোনো শ্মশান ঘাট দেখলেই আমার সেই ভয়ঙ্কর অতীতের স্মৃতিগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। যেগুলো হয়তো এ জীবনে কখনোই ভোলা সম্ভব নয়।


মামার মুখে এমন একটা ঘটনা শুনে আমারও সেদিন ভয়ে গা-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছিলো। ভাবতেই মনটা চমকে ওঠে যে ছোট মামা এমন একটা ভয়াবহ রাতের সাক্ষী যেখানে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই ছিল না‌। ঐদিন রাতে গল্পটা শোনার পর সারারাত আর ঘুমোতে পারিনি। ভাবতে ছিলাম যে রাতের আধারে এখনো হয়তো সেই ভয়াবহ শ্মশানঘাট আবারো জীবন্ত হয়ে ওঠে।

----------------------------------০--------------------------------
***( গল্পটা কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। আপনার মূল্যবান মন্তব্য এবং শুভকামনা একান্তই কাম্য। লাইক, কমেন্ট এবং রেটিং এর মাধ্যমে আমার লেখা এই গল্পটিকে মূল্যায়ন করার জন্য আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ রইলো। )
1.17K Views
14 Likes
6 Comments
4.6 Rating
Rate this: