রাতের ভয়ংকর জ্বীন Episode 1

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমার নাম সাদিকুল। আমি পড়াশোনা করার জন্য আমাদের জেলার বাইরে আরেকটি জেলার কলেজে ভর্তি হই। কলেজের কাছেই একটা বাসাতে আমরা রুম ভারা নেই। সেইখানে আমাদের গ্রামের ৩-৪ জন থাকতাম। আমি সেখানে আবার একটা সুপার শপে কাজ করতাম। শীতের সময়। তখন কলেজে কোন একটা সমস্যার কারণে কলেজ ১৫ দিনের জন্য বন্ধ দিয়ে দেয়। আমার সাথে থাকা বন্ধুরা গ্রামে চলে যায়। আমি কাজ করি যাই আমার সুপার শপ থেকে ছুটি নিয়ে যেতে ২ দিন সময় লাগবে। আমরা যে বাসাতে থাকতাম ওই বাসার ৩ তলায় খুব সুন্দর একটা মেয়ে থাকতো। তার নাম ছিলো মারিয়া। যে কেউ দেখলে তার প্রেমে পরে যাবে। তো আজকে আমি ছুটি পেয়েছি শপ থেকে, রাতে আমি জামা-কাপড় সব গোছাচ্ছি এমন সময় কে যেন আমরা রুমের দড়জায় শব্দ করতেছে। আমি দড়জ খুলে দেখি মারিয়ার মা এসেছে। আমি বললাম....

---কি হয়েছে আন্টি?

--- আমার মেয়েটা কেমন যেন করতেছে তুমি কিছু একটা করো বাবা ( কেঁদে কেঁদে )

---চলেন তো যাই দেখি কি হয়েছে..

গিয়ে দেখি মারিয়ার চুল গুলো এলো মেলো। চোখ দুইট এমন ভাবে লাল হয়ে আছে যে মনে হচ্ছে আগুন জলতেছে। আমি মারিয়াকে কখনো এইরকম আর এইভাবে দেখি নি। তখন হঠাৎ আমার চোখ পরলো তার হাতের দিকে। দেখি সেখানে, মিম, লেখা। লেখাটা কেমন যে জল জল করতেছে। তখন আমার মনে হলো মিম এর কথা কোথায় যেনো শুনেছি। আমি খুব কষ্ট করেও ভাবতে পারলাম না যে আমি কোথায় শুনেছি। এমন সময় মারিয়া ছটফট করতে লাগলো আমি যখনই তাকে ধরতে যাবো তখনই মারিয়া বলে উঠে.....

--- আমার কাছে আসিস না, আমার কাছে আসিস না বলতেছি নাহলে কিন্তু তুই মরবি, তুই কিন্তু মরবি ( অদ্ভুত কন্ঠে )

আমি তো পুরোপুরি অবাক হয়ে গেলাম। ওই হঠাৎ এমন ভাবে কথা বলেছে কেন। আমি তার কথা না শুনে যখনই তার হাতে টাচ করলাম। তখনই আমি দূরে ছিটকে গিয়ে পড়লাম। মনে হলো কারেন্ট এ সট করেছে। মারিয়ার মা তো ১ম থেকে কেঁদেই চলেছে কেঁদেই চলেছে। আমি আন্টিকে বললাম.......

--- আন্টি চিন্তা করবেন না। ওর কিছুই হবে না। ঠিক হয়ে যাবে ওই।

এমন অবস্থায় আমি তাদের ছেড়ে যেতেও পারছি না। চলে গেলে আন্টি একা একা কি করবে। আর এমন সুন্দর মেয়ের পাশে যে আমি থাকতে পারতেছি এটাই বেশি। যে কিনা পুরো এলাকার ক্রাস। আমি আন্টিকে বললাম.......

--- আপনার পরিচিত কোন কবিরাজ আছে?

--- না তো বাবা..!!

--- আন্টি মারিয়াকে মনে হয় জ্বীনে ধরেছে, তাই ওই এমন করছে

--- সাদিকুল,,,, বাবা তুমি একটা কিছু করো....!!

--- আচ্ছা আমি কিছু একটা করতেছি...!!

এরপর আমি পকেট থেকে ফোন বের করে কল দিলাম সাব্বিরকে।সাব্বির কে বললাম একটা কবিরাজ নিয়ে আসিস সাথে করে। আর মারিয়ার কথা সব বললাম সাব্বিরকে। সাব্বির আমার সাথে আমার ক্লাসেই পড়াশোনা করে। আমরা দুই বন্ধু একদিন ভাই এর মতো। যাই হক, এরপর ২০-২৫ মিনিট পর সাব্বির আসলো আমাদের এইখানে। কিন্তু সাব্বির একাই এসেছে কোন কবিরাজকে নিয়ে আসে নি। আমি সাব্বিরকে বললাম...

--- কিরে সাব্বির তুই একই এসেছিস...!! তাহলে জ্বীন তাড়াবে কে??

--- কেনো জ্বীন আমি তাড়াবো...!!

--- তোর এই চিকন সাস্থ নিয়ে তুই জ্বীনের সাথে লড়াই করতে পারবি..??

--- তুই তাহলে আমার বিষয়ে কিছু জানোস না। আমি এর থেকে কত বড় বড় জ্বীন বোতলে বন্ধি করেছি। কত জ্বীন ছাড়িয়েছি মানুষের থেকে...!!

--- কই আমাকে তো আগে কিছুই বলিস নাই....!!

--- এইগুলো কম মানুষ জানাই ভালো...!!!

এমন ভাবে কিছু খন কথা হলো। এপরপ মারিয়ার মা বললো। কিছু একটা করো তোমরা। এরপর সাব্বির যখনই মারিয়ার দিকে তাকায়। তখন তার হাতে, মিম,নাম লেখা দেখে অবাক হয়ে যায়। এরপর সাব্বির আমাকে মারিয়াকে ধরতে বললো।

আমি যখনই মারিয়াকে ধরতে যাবো তখনই আমাকে ধরে ছুরে ফেলে দিলো।


চলবে......


পর্ব-২ খুব তারাতাড়ি আসবে.........!!!!
2.33K Views
47 Likes
12 Comments
4.0 Rating
Rate this: