আই -এস ◀️ বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বয়স তার মাএ ১৩ বছর আই এস সবেমাত্র সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। বাবা একজন মৎস্য ব্যাবসায়ী মা একজন গৃহীনি। আই এস পৃথিবীর আলো দেখার আগে বাবা মনসুর আলী প্রতি রাতের গভীরে তাহাজ্জুদে খুব করে চাইতেন রবের কাছে ছেলেটা যেনো ডাক্তার হয়। যেই চাওয়া সেই কাজ আস্তে আস্তে যেতে লাগলো দিন। আই এসের মা রিনা খানের একই চাওয়া একই আশা ছেলেকে নিয়ে। এভাবে চলতে থাকে দিন। আই এসের বয়স তখন ১৬, মেট্রিক / এস এস সি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। একদিন রাতে বাবা মনসুর আলী মাছ বিক্রি করে আসছিলেন বাড়ীর পথে। সাথে ব্যাগে করে একমাত্র ছেলে আই এসের জন্য একটা বড় দেখে কাতল মাছ নিয়ে আসছিলেন সাথে প্যান্টের পকেটে ছিলো মাছ বিক্রি করা টাকা। ভাগ্যের কি পরিহাস সেই রাতেই সন্ত্রাসীদের হাতে মৃত্যু হয় বাবা মনসুর মিয়ার সাকাল বেলা মা রিনা খানের কান্না থামায় কে? পাশে দারিয়ে আই এস মাকে শান্তনা দিচ্ছে। আর বলছে মা তুমি এভাবে করে কেদোঁ না, আমার খুব কষ্ট হয়। বেশ কিছুক্ষণ বাদে বাবা মনসুর আলীর দাফন কাফন শেষ হয়। শুরু হয় তাদের কষ্টের জীবন। আই এস অল্প অল্প করে যা ইনকাম করতো তা দিয়ে চলতো সাংসার তাছাড়া পড়াশোনারোও তো একটা খরচ আছে। বেশ কিছুদিন চলতে থাকে এভাবে। আই এসের পাইনাল পরীক্ষা চলছে আই এসের পাশের টেবিলেই পরীক্ষা দিচ্ছিল, লাবণ্য, লাবণ্য প্রতিদিন একটু একটু করে আই এসের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতো। কিন্তু সে কোনো ভাবেই কথা বলতো না কেননা আই এস প্রতিদিন যখন ইস্কুলে যেত মা রিনা খান বলতো বাবা আই এস কোনো দুষ্ট রমনির ধোকায় যেনো না পরো আজকেও তার ব্যাতিক্রম হলো না. তাছাড়া আই এসের টার্গেট ছিলো একটাই কিভাবে ডাক্তার হবে এটা নিয়েই তার যত চিন্তা ফিকির। একদিন আই এস ইস্কুলে গেলো এবং পরীক্ষা শেষে বৃষ্টি নামতে শুরু হলো কিছুক্ষণ বাদে লাবণ্য বলতে লাগলো আই এস, চলো আমরা একসাথে বের হই বৃষ্টি দিয়ে। আই এস, না আমি একা যেতে পারবো, বৃষ্টি থামলে তারপর আমি যাবো। আপনি আপনার ছাতা দিয়ে চলে যান। লাবণ্য ছাতা দিয়ে চলে গেলো আধ ঘন্টা পর। আই এস বাড়ীর দিকে হাটতে লাগলো বৃষ্টির মধ্য দিয়েই। কিছুদূর যাবার পর আই এস শুনতে পেল কে যেনো চিৎকার করছে বাচাও, বাচাও, বলে যেদিক থেকে চিৎকারটা ভেসে আসছে সেদিক গেলো আই এস গিয়ে যা দেখলো দু,চোখ কপালে উঠার মতো।
দেখলো লাবণ্যকে বেশ কয়েকটা ছেলে মারধর করছে আই এস সেখানে ছুটে গেলো লাবণ্যকে উদ্ধার করবার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ লড়াই করার পর লাবণ্যকে ছাড়লো তারা। আই এসও বেশ খানিক ব্যাথা পেয়েছে বটে। আই এস লাবণ্যকে জিঞ্জেস করলো কেনো মারধর করছিলো বকাটে গুলো? লাবণ্য, আমাকে প্রতিদিন বাজে কথা বলে তাই আমি আজকে চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ দিতে যাচ্ছিমলাম তখন মারধর শুরু করে। সপ্তাহ খানিক বাদে আই এস শেষ পরীক্ষা দিয়ে বের হচ্ছিলো পেছন থেকে লাবণ্যর ডাক, আই এস, নাম্বারটা কি দেয়া যাবে?আই এস, কেনো? লাবণ্য, এমনি ভালো ইস্টুডেন্টদের সাথে যোগাযোগ থাকা ভালো, তাই। আই এস, ওওও এই কথা? লাবণ্য হুম। পেছন থেকে আই এস ফিস ফিস করে বলতে লাগলো, ভালো ইস্টুডেন্দের সাথে যোগাযোগ রেখে লাভ কি হবে, যদি না, প্রিয় মানুষটাকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে যায়। লাবণ্য আই এসকে জিঞ্জেস করলো, কি বললে তুমি ফিস ফিস করে? আই এস কিছু না। লাবণ্য, না, তুমি কিছু একটা বলেছো আমি শুনতে পেরেছি।আবার লাবণ্য, আই এসের কলার চেপে, সত্যি করে বলোতো আমার জন্য কি একটুও মায়া হয় না তোমার? আই এস, কাপা কাপা গলায় না,......... আই এস কিছু না বলে হাটতে লাগলো,পেছন থেকে লাবণ্য বলতে লাগলো আই এস,আমাকে ভুইলো না আমাকে মনে রেখো,। আই এসের চোখ দিয়ে অশ্রু গরিয়ে পরছে। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না মায়ের আদেশ তো আর অমান্য করা যাবে না। বেশ কিছুদিন পর আই এস তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। কোনো একটা কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আই এস তার গ্রামের বাড়ীতেই থাকতে হয়। সেদিন ছিলো শুক্রবার আই এস পরার টেবিলে বসে পরছিলো তখনই দরজায় কেউ করা নারছিলো, আই এস,কে? দরজার ওপার থেকে আমি। আমি কে নাম কি আপনার? দরজার ওপার থেকে আমি রনি চেয়ারম্যান সাব পাঠিয়েছেন।আই এস ওওও............... কিছুক্ষণ মতবিনিময় হলো তারপর আই এস বললো তো কি মনে করে পাঠিয়েছেন চেয়ারম্যান সাহেব? রনি,আপনার মাকে বয়স্ক ভাতা দিবে বলে পাঠিয়েছেন। আই এস চেয়ারম্যানের ডাকে সারা দিয়ে গেলো এবং কার্ড করলো। কিছুদিন বাদে সব প্রতিষ্ঠান খুলা হলো আই এসও চলে গেলো ঢাকাতে। এদিকে প্রতিদিন লাবণ্য আই এসকে ফোন করতো কিন্তু কখনো ফোন ধরতো না,মাস কয়েক বাদে আই এসের চাচা ফোন দিয়ে বললো তোর মা খু্ব অসুস্থ তুই তাড়াতাড়ি গ্রামে আয় আই এসের মাথায় যেনো পাহাড় ভেঙ্গে পড়লো। আই এস তাড়াতাড়ি আসলো দেখে মায়ের অবস্থা বেশি ভালো না, ঢাকায় নিয়ে গেলো ডাক্তার চেকআপ করার পর বললেন আপনার মায়ের অপারেশন করতে হবে। আই এস জিঞ্জেস করলো ডাক্তার কেমন খরচ হতে পারে?
ম ডাক্তার, এই ধরেন ৫--৬ লাখ টাকা,আই এসের মাথায় চিন্তার বার কি করবে এখন, যে করেই হোক মাকে বাচাতে হবে। কারণ পৃথীবিতে মাই একমাত্র সম্বল। আই এস কি করবে এখন কার কাছে পাবে এত টাকা সাত পাচঁ না ভেবে সুজা চলে এলো চেয়ারম্যানের কাছে। চেয়ারম্যান বললো দিতে পারি এক সর্তে, আই এস কি সর্ত, শুনি? চেয়ারম্যান,আমার একমাত্র কন্যা সারিকাকে তোমাদের বাড়ির বউ করে নিয়ে যেতে হবে, যদিও তার জন্ম থেকে একটা হাত নেই। আই এস বললো আপনার অনেক টাকা পয়সা আছে আপনি চাইলে তো অন্য জায়গাতেও বিয়ে দিতে পারবেন আমার তো বউ দরকার নেই টাকা দরকার। তাছাড়া আপনার কাছে তো বউ চাইনি টাকা চেয়েছি যেটা আবার দিয়ে দিবো। এবার চেয়ারম্যান বলতে লাগলো আমিও তো তোমার কাছে টাকা ফেরত নিতে চাইনি তোমাকে আমার মেয়ের জামাই করে নিতে চেয়েছি। বেশ কিছুক্ষণ আলাপের পর আই এস সিদ্ধান্ত নিলো, হুম টাকা দিলে বিয়ে করবে। কিছু করার নেই মাকে তো বাচাতে হবে। চেয়ারম্যানের থেকে টাকা নিয়ে মায়ের চিকিৎসা করলো এবং মা রিনা খান সুস্থ হলো তার কয়েকদিন বাদে চেয়ারম্যান আসলো আই এসের বাড়িতে এবং বলে বাবা আই এস তোমার কি সর্তের কথা মনে আছে? আই এস, হুম মনে আছে তবে চাচা আপনার টাকা গুলো আমি পরিশোধ করে দিই। দরকার হলে আমি আপনাকে ডবল টাকা দিবো তবুও মাফ করেন মা রিনা খানও চেয়ারম্যানকে খুব করে বলে। কিন্ত কে শোনে কার কথা। ঐদিকে লাবণ্য বিষয়টা শুনতে পেরে ছুটে আসে আই এসের কাছে। লাবণ্য,কেমন আছো আই এস? আই এস, হুম ভালো, লাবণ্য,ভালোই তো থাকার কথা কারণ দু দিন পর তোমার বিয়ে । আবার লাবণ্য আই এস, তুমি কি পারতে না আমার কাছে একটাবার বলতে যে তোমার টাকা লাগবে। আমার জন্য কি তোমার একটুও মায়া লাগে না? আই এস চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনছিলো। লাবণ্য আই এসের চোখের দিকে লক্ষ করতেই দেখতে পেলো দু,চোখ দিয়ে অশ্রু পরছে টপ টপ। লাবণ্য,আই এস আমি তোমার চোখে জীবন্ত ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি যদি আমাকে ভালো নাই ভাসতে তাহলে তোমার চোখে আজ অশ্রু থাকতো না মুখে হাসি থাকতো। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ আলাপচারিতার পর লাবণ্য চলে গেলো লাবণ্যও চেয়ারম্যানকে খুব করে রিকোয়েস্ট করে কিন্ত কে শুনে কার কথা। অবশেষে দু,দিন পর আই এসের বিয়ের দিন লাবণ্য তার কষ্ট চেপে রাখার জায়গা না পেয়ে অজু করে বন্ধ ঘরে বসে আল্লাকে ডাকতে শুরু করে সালাতুল হাজত নামাজ পরতে শুরু করে এবং ধৈর্য ধরে আর এদিকে আই এস তার ম্যাজিস্ট্রেট চাচা কে ফোন করে যার সাথে আই এসদের কোনো সম্পর্ক ছিলো না তবুও আই এস লজ্জা শরমের তোয়াক্কা না করে ফোন দেয় লাবণ্যকে কাছে পাবার জন্য। ম্যাজিস্ট্রেট চাচা আসে এবং বিয়ে ভেঙ্গে দেয় তার কিছু সময় বাদেই ম্যাজিস্ট্রেট চাচা লাবণ্যকে ডেকে পাঠায় এবং আই এসের সাথে লাবণ্যর বিয়ে দেয়। দুজনই খুশিতে আত্মহারা। দুজনই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে থাকে এবং লাবণ্য আই এস কে বলে সত্যি তুমি একজন✅ লাভ বয় ☞☞☞☞☞♦শিক্ষা♦ধৈর্যের ফল কখনো তিক্ত হয় না । সবসময় মিষ্টই হয়।➤রবের কাছে কোনো কিছুই অভাব নেই। তবে আমাদের চাওয়ার অভাব আমরা সঠিক ভাবে চাইতে পারি না। কখনো কখনো আমাদের চাওয়াটাও পবিত্র হয় না। ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️গল্পটি কাল্পনিক ভাবে বাস্তবতার সাথে মিল রেখে লেখা হয়েছে। যদি কারো জীবনের সাথে মিলে যায় তাহলে এটা সম্পুর্ণ কাকতালীয় এবং লেখক দায়ী নহে 👈

কোন মন্তব্য নেই