ছোটবেলায় আমি মাদ্রাসায় পড়েছি। মাদ্রাসাটি ছিলো রাস্তার পাশে। তার ডান পাশে ছিলো পাহাড় । আর তার বাম পাশে বড়ো একটি ক্ষেত। ক্ষেতের ঠিক মাঝখানে ছিলো একটি বেড়ার ঘর। ঘরটি খুব ছোট ছিলো। শুনেছি সে ঘরটিতে দুটি মানুষ ছিলো। তারা ছিলো মা,মেয়ে।
এক গ্রীষ্মে আমরা মাদ্রাসায় বসে বসে দুষ্টুমি করছিলাম। কারণ, আমাদের ক্লাসে তখন হুজুর ছিলো না।
এই পর্যন্ত সবকিছুই খুব স্বাভাবিক ছিলো।
হঠাৎ বাম পাশ থেকে একটা চিৎকার শুনলাম আমরা। শুধু আমরা নই, আমাদের যারা সিনিয়র ছিলো তারা ও এই চিৎকার শুনেছিলো সেদিন। সবাই কী হয়েছে দেখার জন্য ক্লাস থেকে বের হয়ে মাঠের দিকে গেলাম। আশেপাশের আরো অনেক মানুষ ও ততক্ষণে জড়ো হয়েছে। দেখলাম মাঠের মাঝখানে থাকা বেড়ার বাড়িটা দাউ দাউ করে জ্বলছে। ভিতর থেকে দুটি মানুষের চিৎকার পাওয়া যাচ্ছে।
আশেপাশের সব মানুষ-জন দৌড়াদৌড়ি করে পানি আনতে ব্যাস্ত।
আমাদের ক্লাসের হুজুররা আর আমাদের চেয়ে বড়ো সিনিয়র ভাইয়েরা ছুটে গিয়ে মসজিদের হাউজ থেকে পানি আনছেন আর বাড়িটার দিকে ছুড়ে মারছেন।
বড় হুজুর আমাদের ওখান থেকে সরে যেতে বললেন। আমরা তা ও সরলাম না। মনে হচ্ছিলো আমাদের পা গুলো ওখানেই আটকে গিয়েছিলো। আমরা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেলাম সবাই।
অনেক পানি ঢালার পর ও আগুন নিভে নি বরং তর তর করে আরো বেড়েই চলেছে।
সূর্য তখন মাথার উপর। আগুন আর গরমের মাত্রা ও ছিলো সীমার বাইরে।
অনেক কষ্টে একজন কে সবাই ঘর থেকে বের করে আনতে পারে। যাকে বের করতে পেরেছিলো তিনি ছিলেন মেয়েটির মা। উনাকে সাথে সাথে হসপিটাল নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু, উনার মেয়েকে কোনোভাবেই কেউ বের করতে পারে নি।
মেয়েটি আমাদের চোখের সামনে দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলছিলো। সাথে বাড়িটা ও। আমরা সেদিন মেয়েটির আর্তনাদ শুনেছিলাম। বাচাঁর জন্য কতো আকুতিই না ছিলো সে মেয়ের চোখে মুখে। গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে সেই মেয়েটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো বাচাঁর জন্য। কিন্তু বাচাঁনোর কোনো উপায় ছিলো না তাকে। আগুন মেয়েটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিলো। সেই মেয়েটিকে আমরা সবাই চোখের সামনে জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখেছি।
আগুন কীভাবে লেগেছিলো আমরা কেউ জানি না। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম , তাই যতটুকু মনে আছে ততটুকুই বললাম।অনেক বছর হয়ে গেলো ঘটনাটির। কিন্তু, এখনো ভুলতে পারি নাই। এখনো মেয়েটির সেই আর্তনাদ গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে।
একটি মেয়ের আর্তনাদ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
270
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating