অপূর্ণ ভালোবাসা

ছোটবেলা থেকে আমি দুষ্টু স্বভাবের পড়ালেখা আমাকে দিয়ে হবে না তা বুঝে গিয়েছিলাম বাবা মা পাঠাতো বই নিয়ে স্কুলে আমি বই নিয়ে যাইতাম স্টেডিয়ামে বা দূরের কোন মাঠে ফুটবল খেলতে আমি ছিলাম ফুটবলে পাগল আর হ্যাঁ আমি সামিউল আমার বাবা একজন ছোট ডিসপেনসারি কম্পাউন্ডার আমার বাবার ইচ্ছে আমাকে ডাক্তার বানাবে ‌
আর আমার ইচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল খেলবো একদিন ঠিক আমাকে পাঠালো প্রাইভেট পড়তে আমি যাচ্ছি পড়তে মন্ডল পাড়ায় পড়তে যাই কিন্তু মন্ডলপাড়া পৌঁছাতে দেখলাম বিশাল ফুটবল ম্যাচ চলছে মন্ডলপাড়া আর বাঞ্ছারামপুর
মন্ডলপাড়া তিন গোল হজম করে নিয়েছে আমি যেতেই তোমাকে সবাই ধরল যে আমাকে খেলতেই হবে আমি মোটামুটি ভালো খেলি
পাড়ায় পাড়ায় ৫০ ১০০ টাকা খেপ খেলি মানুষের জোরাজুরিতে লুঙ্গি টাকে খুচে বই পাশে রেখে নেমে পড়লাম মাঠে
সেই খেলা ও হয়েছিল বটে মনে আছে সেদিন বাঞ্ছারামপুরের এক গোল সুদ করে আরো তিন গোল দিয়েছিলাম হাফ টাইম হয়েছে আমাকে সবাই বাহবা
দিচ্ছে
এমন সময় দূরে দেখতে পেলাম বাবা আসছে কিসের খেলা বইগুলো কোনরকম ছো মেরে নিয়ে দিলাম দৌড় সেদিন থেকে এলাকার মানুষ আমার বাবাকে অনেক খারাপ মানুষ ভাবে এটাও শুনেছিলাম বাঞ্ছারামপুর আমাদের দেয়া তিন গোল শোধ করে জিতে গেছে
মনটা খারাপ হয়ে গেল বিকাল গড়িয়ে রাত হয়ে গেল বাবার ভয়ে বাসায় যেতে মন চাচ্ছে না কি যেন হয় আজকে
তারপরও ভয়ে ভয়ে বাড়িতে গেলাম সবাই প্রায় ঘুমিয়ে গিয়েছে ঘরে ঢুকে দেখলাম শুধু দিদি জেগে আছে দিদিকে বললাম একটু বোরিক পাউডার দিয়ে গরম পানি করে দিতে কিছুক্ষণের মধ্যে গরম পানি নিয়ে আসলো শরীরটা প্রচন্ড ব্যাথা করেছে
একটু ছ্যাকা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম

আমার খুব ভোরে উঠার অভ্যাস ভোরে উঠে জগিংয়ে বের হই ফুটবল খেললে দম বাড়ানো বড় একটা উপায় আমার দৌড়ের পেটান হচ্ছে বাসা থেকে মন্ডলপাড়া মাঠ হয়ে কানাই কাকুর বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা ধরে সোজা আমতলী দোকানের পাশে সেখানে একটু রেস্ট নেই বাসায় চলে আসি সেখানে অবশ্য বসার কারণ আছে সেখানে যখন বসি তখন ঠিক দোকানের উল্টোপাশে একটা দুই তলা বিল্ডিং আছে সেখানে মিডিয়াম আওয়াজের একটা রোমান্টিক গান বাজে আর জানালার পাশে পরীর মত একটা মেয়ে অপরূপ দৃষ্টিতে বাইরে চেয়ে থাকে মূলত তা দেখতে সেখানে বসি আসলে আমি মনে মনে ওকে ভালোবাসতাম এক পক্ষিক প্রেম যারে বলে আর কি
এভাবে প্রতিদিন বসি সেখানে আজও খুব ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে জগিং বের হয়েছি তো দৌড়াতে দৌড়াতে আমার গন্তব্য আমতলী দোকানের কাছে এসে পৌছালাম কিন্তু আজব ব্যাপার হচ্ছে আজকে কোন গান বাজছে না জানালা ও খোলা নেই আমি একটু বরকে গেলাম বাড়ির গেটের সামনে দেখলাম একটা দামি মোটরসাইকেল হলুদ কালার যার উপর বসে আছে একটা স্মার্ট ছেলে গলায় সোনার চেইন হাতে দামি সিগারেট একদম রাজার হাল বসে বসে মোটরসাইকেলের উপর বিড়ি ফুকছে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো হয়েছে তোমার ?
বলার সাথে সাথেই দেখলাম একটা নীল শাড়ি পরা কন্যা দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছে প্রথম ভাবছিলাম পরী হবে বুঝি পরে মুখের দিকে খেয়াল করে দেখি এইতো আমার পরী যাকে জানালায় দেখার জন্য প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকি আজকেও দেখার জন্য এসেছি কিন্তু সে সেজেগুজে এই ছেলের সাথে কোথায় যাচ্ছে আমি অবাক হয়ে চেয়ে রইলাম
সে আসতেই বড় কায়দা করে মোটরসাইকেল টা স্টার্ট করল আর মেয়েটি মোটরসাইকেলে উঠে ওকে চেপে ধরল মেয়েটি কাকে যেন বায় বলে চলে গেল আমি মনে করেছি আমাকে বলেছে মনে মনে বায় আমিও বলেছি পরে বুঝতে পারলাম তার বাড়ির কুকুরটাকে বলেছিল

সকালবেলা এসব দেখে মনটাই ভেঙ্গে গেল কি আর করা মনটাই ভেঙ্গে গেল বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলাম আর কখনোই যাওয়া হয়নি সেই আমতলীতে আজও অনেক বছর কেটে গেল জানতে বড় ইচ্ছে করে মেয়েটি কেমন আছে সে ছেলেটি কি এখনো তাকে এভাবে ঘুরতে নিয়ে যায় কিন্তু সেখানে আর যাওয়া হয় না জানাও হয় না
3.34K Views
65 Likes
3 Comments
3.7 Rating
Rate this:
(60)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (3)

Reader photo
Hossain Arif
23-Jun-2024, 07:24 AM

9c

Reader photo
01987262709
09-May-2024, 10:36 AM

ইমোশনাল স্টোরি আমি অনেক পচ্ছোনদো করি

মোঃশহিদুল ইসলাম
মোঃশহিদুল ইসলাম
19-May-2024, 11:50 PM

ধন্যবাদ

Reader photo
ইসরাত জাহান মাইশা
18-Mar-2024, 03:34 PM

ভালো লাগছে 😇😇

মোঃশহিদুল ইসলাম
মোঃশহিদুল ইসলাম
19-Mar-2024, 09:58 AM

ধন্যবাদ পাঠক